সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১৬

পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত



অন্ধকার ফুঁড়ে কাক
পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত



১
স্নায়ুর ডানা ঝাপটে চক্রাকার উড়ে চলল কাক,
অনেকখানি এইভাবে শীতল অনুচরেরা পপলার গাছ আর বন্য গোলাপের ঘ্রাণ
সবজিবাগানের মতো আকাশের একপাশে ফিনকি দিয়ে লাল রণক্ষেত্র
প্রথম স্বাদ পেল পল্লির অঙ্গসজ্জা ভিয়েনে চারুকলা,পোলাও-কালিয়া
লিথোগ্রাফ নয় একাডেমি-ঘর নয় সামান্য থিয়েটার,চোখের সামনে
কার্নিশ থেকে দেখা যায় কাঁসার কড়াই, ডেকচির ভুষোকালি
গোলাদুধ।কাকের জিহ্বা দেখা যায় না,দীর্ঘ চঞ্চু তার লকলক করে
জিভ দিয়ে জল গড়ায় কি না গড়ায় বুঝিনা যদি না থাকে,ভালো লোহার দরজা
সুদূরে শহর আর বনের ঈগলেরা বারুদের মতো পুড়ে ছাই হোক
ঘনায়মান অন্ধকার ফুঁড়ে আমি গভীর দরাজ দুই হাতে মধুর মিনার কচলাব।
২
গৃহাভিমুখে তুর্কী উল্লাস যেন দশ ঘোড়ায় টানছে ক্ষুধার স্তূপ,চূণকাম করা
চার-কুইন্টাল ভাত,জীবনের যুদ্ধে আমি অর্ধেক পেয়েছি,আর বাকী
বন্য অশ্বের কেরামতি।মৃত্যুর মতো মৃত্যু যদি আসে গহ্বরে রসুইখানায় ইয়া
আল্লা,শুঁড়িখানা তোলপাড়,অন্যের প্রভুত্ব ছ্যা,অচ্ছেদ্য সঙ্গি আমার দশহাজার কাক।
চিৎকার আনন্দে উজ্জ্বল
ভয় পাইনা এয়ার-গান ইট পাথর দুরাচার ডাইনি-টাইনি
৩
বাদুড় পানকৌড়ি কাক চললো সেই ঘোড়ার গাড়িতে,স্লেজ থেকে বক আর
লালঠোঁট মাছরাঙা পাখি
এগিয়ে চলল,
অভ্যর্থনার সম্ভাবনা অবগত আছি
সফরের তাঁবু আর ইরাণের জলপাত্র বুকে
ঘোড়ার লাগাম নেই সজ্জিত সতর্ক কপাল,অশ্বপৃষ্ঠে সমাসীন কাক
জয় হো
৪
সুখাবেশ চেরিগাছের ছায়া কাকের স্টুডিও
ক্যানভাস আর একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র টুনটুনি
পুকুরের জল পেরিয়ে কাক চলেছে নির্বিঘ্ন
দরদী যৌবন তার সামরিক জীবন ছোঁ-মেরে উপক্রম হল তৃপ্তির ভাব
চুলের ঝুঁটি ধরে আর্শিতে দেখে প্রতিরূপ,অদ্ভুত বীরত্বের গৌরব
মশাইরা, কাক কোনো ইতোর কিছু নয়
ঘুরতে ঘুরতে তার কৌলীন্য জাগে
বেমালুম উধাও তার ঘুম আপাত মনে হয় কিন্তু পৌরুষের
সমস্ত সৌন্দর্য পাকখায়,বুক ঘাড় কাঁধ বিজয়ি-গড়িমা
কেবল ওর আত্মা থাকে সোনায় মোড়া কিংখাবে
পাহাড়ের মাঝখানে উপত্যকায় বুকের পাঁজর রেখে আসে
তোমার চিকণ কালো ভুরুর দিব্যি খুঁটিতে আর বেঁধে রাখব না তোমাকে
৫
সুগন্ধি চুল্লির দীপ্তি ভেসে চলেছে
ঝলকাচ্ছে সেটা
জানালার নীচে অতলস্পর্শী খাদ যেন কবর থেকে ফিরে এসেছে ফ্রাই ফিশ
কাক কাক আর কাক উঠে দাঁড়ায় বসে খলবল করে
ভোগ উন্মাদের মতো পিতৃপিতামহ নৈশ আহার ছাই রঙ
দেখুন কী বাহাদুর যেখানে খুশি অপ্রতিরোধ্য একরোখা
গৃহস্থালির কাজ নেই শুধু খুঁটে খুঁটে
মহাশয় ঠাট্টা করবেন না,
কাকেরা প্রারম্ভে আদর-টাদর কিছুই তো পায়নি,প্রণয়ীর চুমু
উদগ্র-আবেগ বেপরোয়া বউ
এই বুঝি ছোঁ-মেরে নেয় প্রক্ষিপ্ত ললাট
শকুনের থাবা গাংচিল শয়তানের আলখাল্লা বিছিয়ে
পৃথিবী মুখর হোক কা কা কা কা কা
ভীতিপ্রদ কিছুটা সময়
হাসপাতাল ধ্যানমগ্ন ভিলা জানালার পর্দা সৌখিন-রেস্তোরাঁ
শূন্য হয়ে দাঁড়িয়ে রইল এমন তো নয়
৬
মহৎ কল্পনা নিয়ে উড়ে চলল কাক,বিক্ষিপ্ত
বিষাদের পুরোনো বইগুলো
তাতে ছবি
আমার চিন্তার আগে কাক এসে বসেছে সাগ্রহে

মানুষের বাড়িতে কাক বস্তুত দ্য ইডিয়ট
তাদের যন্ত্রণার অশ্রু মন্দভাগ্য কি করে লুকিয়ে রাখবেন আপনি
পীড়া থেকে আসা ধুলো বিনির্মাণ করো হে মহাদেব মৃত্যুর পর ও যেন মানুষ হয়
ও যেন খেতে বসে ডিনার টেবিলে
আদব-কায়দা শেখে রঙ পায় যুগপৎ ভাবুক ও নিবিড়
৭
সানুপুঙ্খ আমি কিছুই বলিনি,কেবল কাকের ব্যথা সঞ্চারিত ইশারা-বাচনে
আড়চোখ আর
ঔদ্ধত্য তুলনায় কম
পাঠকবর্গ বুঝে দেখুন,ক্ষণিকের অন্তর্ধান যেন সেই ফুসমন্তর
সে বুঝি উদ্দীপিত হল সে বুঝি
পরম তৃপ্তি নিয়ে ঢেলে দেবে মাংসের রোস্ট প্রেতাত্মার মুখে
৮
কখনো কখনো কাক ডেকে তোলে প্রেতাত্মার দেহ
খামার বাড়িতে সে খুঁজে পায় রাংতার মোড়কে জড়ানো
ঝাড়া দিলে সোনার রেকাবি ঝন ঝন শব্দ হল খুব
গোটা দল ছুটে আসে কাকাকা কা কা কা কা কা কা
সারা ভারতবর্ষ ডেকে উঠল কাকা কাকা কাকা কাকা
কাকের কি বলিষ্ঠ চিৎকার সাদা হাড় অভিজাত ফুসফুস
উপস্থিতবুদ্ধির পালক বাতাসে ভাসছে যেন আমোদ বেড়েছে
তারও ঝাঁকড়া বুনো নিদ্রা আসে দুপুর গড়ালে,আহা আত্মা
ঝাপ দিল জলে আহা ইহলীলা চলো যাই জাহান্নামের খুপড়িতে
ঢুকে পড়ি,দেশ কাল নতুন বিছানা বালিশের কল্কা করা মুখ
তোমার পাপের ভাগ ভাগাভাগি হোক
৯
অনুশোচনার কুঠুরিতে কাক নেই
শুঁড়ির দোকানেও কাক যায়নি
চারদিকে দৃষ্টিপাত শুধু
আত্মার সদ্গতি হোক
চুল্লি থেকে সদ্য সেঁকা পিঠে
চাল-কলা
এই নাও বিগ্রহ
জীবনের গন্ডিতে তন্দ্রা এনে দেবে,এই নাও
মধুর সংকীর্ণ শিশি ।

নিজের নিজের মুখ হতভাগা মগডালে ঝুলন্ত, নিচে
জলরাশি আয়নার সমান,নেমে এলো মাথা উঁচিয়ে মেঘ
কাকের সজ্জিত খড়খড়ি
কাকের আত্মবিস্মৃত মন
অনাড়ম্বর
অনুভবযোগ্য বলে বেপরোয়া কাক
পথ দেখাচ্ছে পক্ককেশ পায়রার ঝুঁটি
১০
কাক কী স্লেজ-গাড়ি টানে!
টানেলের ভিতর টয়ট্রেনে কাফেটরিয়ায়?
আমগাছে হোস্টেল খুলেছে কাকেরা,বায়ুদেবতার ঘর শিবখোলা
শ্মশান মশান ভাটিখানা ছিলিমের দোকান
কাকের দেবতা যিশু
নির্জনতা তাকে কাবু করতে পারে না।












এবং একুশ

মাসউদুর রহমান খান



আতসী
মাসউদুর রহমান খান




আতস কাঁচ ফেলে দেখা মানুষের
ভেতর যেন ভরা পূর্নিমায় ভয়াল
কালো মেঘ। অথচ, দিনের আলোয়
শুভ্রতা নিয়ে বসে, মেঘেরই মত।
মানুষেও সেকি! অদ্ভুদ দ্বি-তত্ত্বম।

তদন্তের রিপোর্টটিও আলো দেখেনি,
আর কখনোই পায়নি তার খোঁজ
আলামতে,
নিজেই নিজের বৃত্ত, শূন্য আঁকা কাগজে
সরষের ভূত মন্ত্র জপা
আরও একবার।

অন্দরমহল আর বাহিরের চাকচিক্যে
অন্ধ যেজন,
তাকে স্নিগ্ধ সকালের শুভ্রতা ছুঁয়ে যায় না।











এবং একুশ

মৃন্ময় ঘোষ




রূপকথা
মৃন্ময় ঘোষ




রাজপুত্তুর এবং রাজার কন্যে নিয়ে
রূপকথা যা, বাদ দিয়ে আজ অন্য কিছু।
তোমার আমার পাশের বাড়ীর শ্যামলা মেয়ে,
চালাক সে নয়, একটু বরং ক্যাবলা সে জন।
দাঁত উঁচু তার, প্রেমের চোখে কেউ দেখে নি।
হৃদয়পুরের সিংহাসনে স্থান রাখে নি।
একটা ছেলে হ্যাবল ক্যাবল বেকার মানুষ।
মোট বয়ে খায় নেই তো তারও টাকার তোড়া।
অশিক্ষিত ক্যাবলা ছেলে ঠকায় লোকে,
পরিশ্রমী দিনের শেষে যা পায় কমই।
দেখলে তাকে শ্যামলা মেয়ের দুঃখ জাগে,
ইচ্ছে করে ঘাম মুছে দেয় রুক্ষ দেহের।
কাজ সেরে সে ফেরত এলে আসন পাতে,
ভাত বেড়ে দেয় দু-এক মুঠো ভীষণ স্নেহে।
ক্যাবলা ছেলে এতেই খুশী গরম ভাত আর
অল্প স্বল্প যা জুটে যায় নরম ছোঁয়া।
হে মহাকাল, এদেরকে এক সঙ্গে রেখো,
অল্প খুশী, অল্প হাসি রঙ্গে বাঁচুক।
রক্ত ঘামের মধ্যে সোহাগ রোজ গাঁথা হোক।
তোমার আমার এই কাহিনীই রূপকথা হোক।















এবং একুশ

রাজা ভট্টাচার্য


শাওন
রাজা ভট্টাচার্য


শুকনো ডালে বসেই যদি শাওন-রঙা পাখি,
একলা ঘরে ঢোকেই যদি অকাল-বৈশাখি -
জানলা ভাঙা, দরজা ভাঙা, ঠেকাই কেমন করে?
বহু যুগের ওপার হতে আষাঢ় এল ঘরে।
#
ভিজে যাচ্ছে শুকনো পাতা, ভিজে যাচ্ছে মাটি,
বানভাসি তোর হাতের রেখায় আমার হাঁটাহাঁটি ;
ভ্রু-সঙ্গমে বৃষ্টিফোঁটা - একটুখানি ছুঁই?
রাতের বুকে বৃষ্টি এল।
আমার বুকে তুই !
#
একলা ঘরের কাঙালপনা বাড়িয়েছিল হাত,
তুই ছুঁলি না বলেই এত তুমুল বৃষ্টিপাত...







এবং একুশ

শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়



এসো, প্রেমের কথা বলি 
শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়




এসো এখন আমরা প্রেমের কথা বলি
হাতে হাত, ঠোঁটে ঠোঁট, শরীরে শরীর
এসো, আমরা ভালবাসার কথা বলি।


হয়তো বা পৃথিবীর কোনো প্রান্তে গুপ্তঘাতক
এ সময়ই পিস্তলের বুকে কিছু ভুল ভরে নিল
হয়তো বা ধমনীর লাল রঙ মেখে নিল
কোনো প্রান্তে মৃত্তিকা এখনই
অতলে তলিয়ে যেতে যেতে
হয়তো বা এ মুহুর্তে ঠিক, কোনো মেয়ে
কোনো দেশে বলছে চেঁচিয়ে -
'আমায় এমন করে মেরো না পুরুষ'।

ভেবো না সে সব,
এসো আমরা প্রেমের কথা বলি
এসো আমরা ভালবাসার কথা বলি।

দুফোঁটা জলের জন্যে খালি পায়ে মরু বেয়ে
ক্রোশ ক্রোশ হেঁটে যায় যারা
তারা কি আদৌ জানে কত নদ নদী
আমাদের পাহারায় নিত্যদিন উচ্ছল উত্তাল!
এইমাত্র হয়তো সে পথে
নিদাঘের তপ্ত তাপে 'জল জল' বলে
কোনো প্রাণ বালিতে হারাল।
সীমান্তে টহলরত একরোখা হয়তো বা কেউ
শত্রুর বুলেটে তার বুক ভরে নিল, এইমাত্র
হয়তো অশীতিপর কোনো এক কামুক ধার্মিক
কবুল করল কোনো কিশোরীর নিকা
হয়তো বা কন্যাভ্রুণ এইমাত্র ধুয়ে মুছে সাফ।

না...না, এত ভাবতে নেই, তার চেয়ে
এসো আমরা প্রেমের কথা বলি
এসো আমরা ভালবাসার কথা বলি।

এ নশ্বর পৃথিবীতে কোনোকিছু চিরস্থায়ী নয়,
কারা যেন অকারণ এই সব বলে।
আসলে সমস্ত কিছু আপেক্ষিক
বহতা নদীর মত জীবনের স্রোত
এ-ঘাট সে-ঘাট ছুঁয়ে ছুটে যায় দিকচক্রবালে
যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ জীবনের গতি
তারপর আমি নেই, তুমি নেই
আমাদের প্রজন্মের ভার, বয়ে যাবে অন্য মানুষ
ছায়া রেখে গেলে ছায়া, আগুনে আগুন
মেখে নিয়ে টেনে যাবে নিজের জোয়াল।

না...না...না...না, ভেবোনা এ সব, বরং
এসো, আমরা প্রেমের কথা বলি
এসো, আমরা ভালবাসার কথা বলি।







এবং একুশ

অনুপ দেবনাথ



সৌদামিনী 
অনুপ দেবনাথ 



তোমাকে আমি এণাক্ষী বলে ডাকতাম,
মীনাক্ষী, মৃগনয়না, মদিরেক্ষণা ও বলেছি কতবার,
মনে ও নেই সব।
তোমার চোখ আমার সবচেয়ে প্রিয়,
চোখেই যে সব বলে দাও।

গঙ্গার ঘাটে সেদিন বসেছি দুজনায়,
আকাশ রাঙ্গিয়ে ধীরে নামছে সন্ধ্যা।
দু পাড়ে জ্বলে উঠছে আলো,
ছোট ছিপ নৌকোগুলো হঠাৎ অন্ধকার।
কথা কইছিলে না তুমি।
নদীর কথা শুনছিলে?
ছলাৎ ছল, ছলাৎ ছল।
অপাঙ্গে দেখছি তোমায়,
কি রূপ, কি রূপ।
আলো ছায়ার, আঁধার মায়ায়,
মেয়েরা অলোকসুন্দরী হয়ে যায়।

বেশ ক্ষিদে পেয়েছিল।
দুটো ডিম টোস্ট কেনা গেল।
নদীর ধারে বসে রইলে তুমি ঠায়,
জলের দিকে অপলক।
এসে যেই না বসেছি তোমার পাশে,
অমনি শীর্ণ হাত বাড়িয়ে,
খাবার চাইল একটি বাচ্চা ছেলে।
তোমার চোখে তাকালাম,
সে চোখে প্রশ্রয়।
একটা টোস্ট দিয়ে বললাম, যাঃ
নড়লো না ছেলেটি,
পাশে এসে দাঁড়ালো তার বোন,
এ তো মহা মুশকিল. . .।
তুমি স্থির তাকিয়ে আমার দিকে,
বাকি টোস্টটাও দিলাম অগত্যা।
তাকিয়ে দেখি সুহাস তোমার চোখ,
তাতে খেলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ।
সৌদামিনীর সে মায়ায়,
আমি আজও পুড়ে যাই।
ভালোবাসা অঞ্জন ঘন সে চোখ,
দেখতে পাই আমি আজও।

তারপর?
ভালোবাসা পেয়েও ক্ষিদে নিয়ে ভাববো, এমন অনভিজাত আমি নই।

ও হ্যাঁ, বলা হয়নি।
অন্য নামে তাকে আর ডাকিনি,
ডেকেছি সৌদামিনী।







এবং একুশ

গৌতম দত্ত





বন্ধু
গৌতম দত্ত



এই ছেলেটা, কোথায় গেলি তুই
মা যে তোকে চাইছে বারংবার
সেই যে গেলি, ফিরছিস না কেন!
তুই না এলে বাড়ি-ই অন্ধকার।


#

বন্ধু’রা তোর এতই যদি ভাল— !
তারা কেন ভেতর ভেতর চুপ?
তুই কি তবে পাকা ধানের মই—
নাকি অপেক্ষাতে? হাতে নিয়ে ধূপ?

#

বন্ধু কথা’র মানে জানিস তুই?
জানে কি তোর প্রাণে’র বন্ধু যারা?
বন্ধু মানে দোসর, স্বজন, সাথী,
আড়ি-ভাবে’র, সময় পাবে তারা?

#

হাওয়া এখন বড্ড বেশী ভারী—
শোনা কি যায়? রাতের কড়া নাড়া—
বাড়ি এখন বন্দী ফ্ল্যাটের ঘরে,
হারিয়ে গেছে রাতের য’ত পাড়া।

#

সন্ধ্যে বেলা হাজার পার্টি’র ভিড়
বোতল-গেলাস গড়াগড়ি যায়—
নেশা যখন মাথায় চ’ড়ে বসে
বন্ধু’কে কি চিনতে পারা যায় ?

#

জেঠা, কাকা কেউ তো বকার নেই—
মানিক সোনা আরো আদর চায়,
বকতে গেলে আইন আসে তেড়ে ;
এমনি করে আদর বেড়ে যায় !

#

এই ছেলেটা, আয় না ফিরে তুই
নয় তো জানা কোথায় পাবো তোকে?
বাঁশ বাগানের মাথার ওপর—
হারিয়ে গেলি? কি বলি তোর মা’কে?

#

সাথী’রা তোর, কাপড়ে মুখ বেঁধে
ঘুরছে নাকি? এ শহরের বুকে— ।
তোর তো তারা বন্ধু বলেই জানি,
পারছে তারা? বসতে, খেতে, শুতে?

#

এমন করে এরাই বড়ো হবে— ?
আমাদের কি নেইকো কোনও দায়!
আরও কত আদর দিয়েই, শেষে
‘বন্ধু’ মানেও পাল্টে দেওয়া যায়!










এবং একুশ

সাবিনা ইয়াসমিন



অশুভ নক্ষত্রের কাল
সাবিনা ইয়াসমিন



এর চেয়ে ভালো ছিলো পিতা
মাতৃগর্ভের কারাগার
২৮ জুলাই, ১৯৭১
পেঁচার মতো এক অশুভ প্রহর ছিল রাতের শেষে।


মা দরজার খিল তুলে ঝুলছিল
সিন্দুকে তুলে রাখা সমস্ত রত্ন
তুলে দিয়েছিল তস্কর হায়েনার হাতে
তবুও ওরা রক্ত চাই রক্ত চাই বলে উল্লাস করছিল
জঠর কারাগারে আমি তখন কেঁপে কেঁপে উঠছিলাম।

সেদিন শ্রাবণের ভোর ছিল
মরুভূমিতেও নেমেছিল ঝরোঝরো বৃষ্টির কান্না
সবাই আমার উদ্দ্যেশ্যে বলছিল
এ সন্তান হয়তো দেখবেনা
বর্ষা, বসন্ত, পৃথিবীর আলো

কিন্তু আমি নষ্টগর্ভ হবোনা
শক্ত হাতে ধরে রইলাম
মাতৃপুষ্প, জন্মগর্ভভ্রূণে।

সকাল আটটায় নদীর তীর থেকে
তোমার শবদেহ এনে রাখা হলো
মায়ের প্রিয় কামিনী ফুলগাছটির নীচে
তখনও, জঠরের ভ্রূণ আমি কাঁদিনি

কারণ তুমি তখন ত্রিশ লক্ষের একটি পুষ্প
স্বর্গের বাগানে ফুটে উঠেছো, অপরূপ
ঝলমলে দ্যুতি।

এরপর ভচক্রে যোগ হলো
আরও অনেক কেতু, রাহূ ও শনি।

আরও এক আবিল ভোর এল
বর্ণহীন আকাশ থেকে
দেবদূতেরা নামবার আগেই
বয়ে গেল এলোমেলো ঝড়
নীড় ভাঙলো বত্রিশ নম্বরে।

দেবদূতেরা নামিয়ে দিলেন স্বর্গের সিঁড়ি
সেই সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলেন
বারবার ক্ষমা করা উদার পিতা
প্রিয় সন্তানেরা ও সন্তানের জননী
এবং আত্মীয় আত্মা।

এখনও অসুস্থ কিছু কীটের প্রলাপ
ঢেকে দিচ্ছে সূর্যমুখীর উজ্জ্বল আলো।

বৃন্ত থেকে খসে পডেছে চারটি কুসুম
জাতির বিবেকের ক্রোডে।

এবারে নতুন রূপ দানবেরা
হলি আর্টিজানে
শোলাকিয়ায়
বাতাসে হিংস্র নারকীয় উল্লাস।

এতসব অশুভ নক্ষত্রকালের পরে
তোমাকে শুধু বলার থাকে পিতা
সাথে করে নিয়ে গেছ যে রুদ্রপলাশ
হিরণ্ময় কৃৃষ্ণচূড়া
নতজানু পেতেছি দু'হাত
আমাকে দাও

দাবানলে জ্বলতে থাকা স্বদেশ
দেখার এ কষ্ট মুখ
আমি আর কাউকে দেখাবোনা।
তোমার দেয়া পুষ্পঋণ নিয়ে
ফিরে যাবো মাতৃগর্ভ কারাগারে।















এবং একুশ

রেজা রহমান



এই ঘুম ভাঙে যদি
রেজা রহমান



যখন যা আসে মুখে তাই বুঝি বলে মুখপুড়ি
এই তো কদিন পর শিমুলতুলোর উড়োউড়ি
খুঁজলেও এ আমাকে ফিরে আর কোথাও পাবিনে
শীতে যে এসেছে তাকে যেতে হয় বসন্তের দিনে।


যে চোখের জল মুছে জাত গেল মন্দ বলে লোকে
আজ তুই চোখ বুজে দেখি ধূলো দিস সেই চোখে
কী আর করিস বল্ বেলা গেল ও চোখের বালি
নিজ কর্মদোষে তুই নিজেরই যে কপাল পোড়ালি!

অনেক হয়েছে রাত আর কত এবার ঘুমাই
এই ঘুম ভাঙে যদি তোকে যেন নক্ষত্রটি পাই।








এবং একুশ

অনাদি চক্রবর্তী




গাঁয়ের পথে
অনাদি চক্রবর্তী


পথগুলো কি তেমনি আছে
তেমনি আঁকাবাঁকা,
দু'ধারেতে ধানের মাঝে
ধূসর রঙে আঁকা।
আল পেরিয়ে যখন আমি
গাঁয়ের পথে যাব,
গ্রাম ছাড়া সেই রাঙামাটির
পথ কি আবার পাব!
রাঙামাটির পথটি ধরে
গাঁয়ের পথে যেতে,
আম-কাঁঠালের গন্ধেতে কি
উঠবে পরাণ মেতে!
গাঁয়ের মাঝে শুনতে পাব
উঠছে কোলাহল,
ধূলার পরে করছে খেলা
ন্যাংটো শিশুর দল
দল বেঁধে কি পুকুর ঘাটে
গাঁয়ের বৌয়ে ঝিয়ে,
তেমনি করে বাসন মাজে
ঘোমটা মাথায় দিয়ে?
পদ্মফোটা পদ্ম দিঘী
তারই ফাঁকে ফাঁকে,
পানকৌড়ি ঘুরে বেড়ায়
সোনালি রোদ মেখে।
গাছের ডালে মাছরাঙাটি
চুপটি করে বসে,
পুকুর পানে চেয়ে থাকে
মাছ ধরবার আশে।
রঙ-বেরঙয়ের প্রজাপতি
ফড়িং ঘাষে ঘাষে,
সন্ধ্যাবেলা জোনাকীরা
প্রদীপ হাতে আসে।
গাঁয়ের শেষে আছে কি সেই
ভগ্ন কুটিরখানি,
যে ঘরেতে থাকত সুখে
রাজার দুয়োরাণী।
মেঘ বরণ কন্যাটি তার
কুঁচ বরণ চুল,
আঙিনাতে ডালে ডালে
চম্পা-চাঁপা ফুল।
এখনও কি পরাণ কাঁদে
কাজলা দিদির তরে,
বাঁশ বাগানের মাথার উপর
চাঁদ উঠলে পরে।


যদি বলো এসব কিছুই
দেখতে আজও পাবো,
তাহলে আবার আমি
তোমার গাঁয়ে যাবো।
পানের বরজ থেকে না হয়
এক জোড়া পান নিয়ে,
চেয়ে নেব পান-সুপারি
তোমার বাড়ি গিয়ে।








এবং একুশ

ব্রতী মুখোপাধ্যায়



এই নাও
ব্রতী মুখোপাধ্যায়


যে মাঠের পরে আর মাঠ নেই
তার মাটি হলুদ
সেইখানে দাঁড়িয়ে
যে আকাশের পরে আর আকাশ নেই
(কী যে নাম রঙের!)
সেই দিকে তাকিয়ে
যখন আমি চেঁচিয়ে উঠে বলি
ভরা মিথ্যের মুখ একবার দেখিয়ে দাও
আমার মাথার ওপর মুখের ওপর স্বপ্নচূর্ণ ছড়িয়ে পড়ে
তলোয়ারকে তলোয়ার
আর রক্ত যা তাকে রক্ত বলে চিনে নিতে ভুল হয় না
যা আর কি লাল চোখ তাকে অন্যরকম মনে হওয়া অসম্ভব
রাজা যখন উৎসবের পথে
ভিকিরিদের তাড়িয়ে দেয়া হয়
তাদের ভাঙাচোরা মুখের করুণ হাহাধ্বনি
হাজার হাতের করতালির গর্জনের নিচে হারিয়ে যায় না


যে খনির নিচে আর খনি নেই
যে পাহাড়ের নিচে আর পাহাড় নেই
যে নদীটি এইমাত্র লুট হয়ে গেল
ছুটে যাই
সারি সারি লাশ শাদা কাপড়ে ঢাকা
গালে হাত দিয়ে বালিকা এক বসে
তার সাহস নিয়ে সংশয়ের প্রশ্ন নেই
কিন্তু তার হাতের আঙুলগুলি ?
আঙুলগুলি কেটে নিয়ে গেছে
বলে সে নিজের মনে গান ধরে
তার সুরে করুণাভিক্ষা নেই
বস্তুত তেমন কিছুই নেই যাকে কেউ বলতে পারে করুণ
মৃত্যুর চেয়েও ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকে
অন্ধকারের চেয়েও অন্ধকার
নড়ে চড়ে, আঘাত করতে থাকে

যে আগুন আমার প্রাচীন পিতা
কঠোর তপস্যার পর পাথর ঠুকে একদিন জ্বালিয়েছিল
বুকের থেকে তার খানিক খামচে এনে
ছুটতে থাকি
মাথার ওপর দিয়ে হাড় কাঁপিয়ে উড়ে যায়
রাজপ্রহরী ইস্পাতের পাখি
তাদের পেট থেকে খসে পড়ছে আগুনের ডিম
চাকায় চাকায় ভর দিয়ে
যারা একটার পর একটা গ্রাম ঘিরতে থাকে
তাদের কারো হাত নেই হাতিয়ার আছে

যে সমুদ্রের ঢেউগুলি গড়ে ওঠার আগেই
ভেঙে যায় কখন
তার তীরে আছড়ে পড়ে হাজার হাজার ঝিনুক লক্ষ লক্ষ মাছ
মরা সবাই
আমি সেখানে দৌড়ে যাই
একটা বুড়ি, গায়ের চামড়া পোড়া,
বালুর ওপর উবু হয়ে বসে
কী যেন খোঁজে
চোখ থেকে রক্ত চুঁইয়ে বসনহীন বক্ষ ভিজে যায়
আর সমুদ্রবন্দরে দেশবিদেশের বণিকদের পতাকা উড়তে থাকে
জাহাজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আগুন ছুঁড়তে ছুঁড়তে যারা নামে
কেমন যেন পরিচিত সবাই
যেন তাদের আগে কবে দেখেছিলাম

যে রাজা ছিল যে রাজা হল
যে রাজা হল যে রাজা হবে
রাজা ত্রাণ করে রাজা প্রাণ নেয়
রাজার হাতে বজ্র রাজার হাতে পুষ্প
রাজার খেতাব দেয় রাজা শূলে চড়ায়
গরিবের জন্যে, হায়, রাজার চোখে কর্পোরেটের পানি
এইসব ভাবতে ভাবতে
স্বজনদের কেউ কেউ যখন বেশ দূরে
আরও দূরে
আরও আরও দূরে
আমি আর বালির ওপর দাঁড়াতে পারি না
আমার আর আকাশ ছাড়া ভরসা নেই
হাত জোড় করে বলি
নক্ষত্র দেখিয়ে তুমি পথ চিনিয়েছিলে
হে আকাশ
শস্য আর স্বপ্নের বিস্ময় হারিয়ে যাবার আগে
এই বেলা আমাকে দাও আলোর আলিঙ্গন
আমাকে শিখতে দাও
যে বাঁচা প্রচণ্ড যন্ত্রণার কিন্তু সেখানে গ্লানি নেই
যে মৃত্যু অনিবার্য কিন্তু সেখানে
নির্বোধ আতঙ্কে কুঁকড়ে থাকতে হবে না
যে জানার শেষ নেই কিন্তু যা এখুনি না জানলেই নয়
তার জন্যে
এই নাও একটি জীবন
একটি বই তো নয়










এবং একুশ

নীল রতন চক্রবর্তী



এখানেই থেমে যায় সভ্যতার রথ 
 নীল রতন চক্রবর্তী


জামা পালটালেই সব পালটায় না,
শুধু চেহারাটা বদলে যায়, এই যা...
আমাদের হয়েছে তাই
নতুন বেশভূষায় চেহারা পাল্টেছি শুধুই,
আসলে তো রয়েছি সেই আকাট মুখ্যই
তাই এখনও আদিম দস্তুরে সভ্যতা লুকাই
আর ব্যপক উল্লাস তার সমর্থনেই ...।।
কি জানি সভ্যতা কারে কয় ?
হয়ত দাঁড়িয়ে ঝুলন্ত বারান্দায়
নিশ্চুপ দেখে যাওয়া তাণ্ডব রাস্তায়
আর ডেকে রেখে নিজস্ব বাতায়ন
চুপচাপ করে যাওয়া নীরব সমর্থন ...
ভুলে যাই আমি বা আমরা, চরিত্র আগুণের
দহনই শেষ কথা, আপন বা পর কেউ নয় তার ।
সময় যদিও পক্ষ করে না অবলম্বন
সে থেকে যায় নির্বিকার ভাবলেশহীন
আর এখানেই তালগোল যতব্যবহার
ধরে নেই আছে সমর্থন তার ,-
নীরবতা সর্বক্ষণে সুখকর নয়
কিছুটা উচ্ছ্বাস আজ বড়ো প্রয়োজন
নীরব জনতার, নিদেন পক্ষে মানবতার
না হলে আগুন দহনেই খেলবে রক্তে ফাগুন...
ধর্ম আমাকে বলে নি যেতে মিথ্যা আচরণে
তবু যাই আপামর সব অন্ধ জ্ঞানে
পাল্টে ফেলা জামাতেও ধরে সেই পথ
আর এখানেই থেমে যায় সভ্যতার রথ...











এবং একুশ

মধুসূদন রায়




আলোকবর্তিকা
মধুসূদন রায়




বুকের মধ্যে নিশ্চল রসিক বাজনাদার
ঝলসানো হাত ধরে নৌকোর দাঁড়ের শব্দ শোনায়
রক্তের স্রোত বয়ে চলে স্মৃতির শহর পেরিয়ে
নির্বাক কুয়াশার কিনারায় –
#
ব্যক্তিগত শব্দরা অনুরণন মানে না
স্রোতের গভীরে ধাক্কা মারে অগভীর
কথোপকথন, পায়ের তলায় রাধাচূড়া,
পঞ্চমীর চাঁদ সরে গেলে ছলছল হয়
হলুদ জাফরানি চোখ
#
ধুয়ে যাচ্ছে সমস্ত স্বপ্নবীজ
কৈশোর ফিরছে গেরুয়ারাঙা রাস্তায়
প্রথম গোলাপের নির্জন ছাতিমতলা
#
তোমাকে ছিন্ন করল যে রাতের তারা
তাকে অতর্কিতে ভালবাসা দিও









এবং একুশ

মনিরা রহমান ঊর্মি






আঁধার...
মনিরা রহমান ঊর্মি



দু একটা ড্রাগন কিংবা ডায়নোসরের মত নয়
একঝাক নীলতিমির মত দুঃখ আছে আমার।
ওদের সাথেই নিত্য বসবাস।

মাঝেমধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠদেশে ভেসে ওঠে
অক্সিজেনের প্রয়োজনবোধে
তখনই চট করে একঝলক রোদ মেখে নিই গায়ে
আবার তলিয়ে যাই কয়েকশ ফুট নীচে

সমুদ্র তলদেশে, মুখগুজে পড়ে থাকি...
একা।
অন্য এক জগতে, যেখানে আলো ভীষণ ক্ষীণ
অন্ধকার বরফ শীতলতায়, স্নায়োবিক অসারতায়
কাটে রাত-দিন।

যদিওবা, দিন কিবা রাত বিশেষ কোনও পার্থক্য বোধগম্য নয়,
যেখানে আলো আমাকে ছুঁতেই পারেনি,
তবে কি করে ভোর হয়?

আকাশে যাই থাকুক,
সূর্য কিংবা চাঁদ
সমুদ্র তলদেশে কেবলই
আমার..
অমাবস্যার আঁধার
বিদঘুটে কালো রাত।









এবং একুশ

প্রিয়াঙ্কা দাস





অনন্ত আশা
প্রিয়াঙ্কা দাস




মধুময় জ্যোৎস্নায় তুমি এলে একাকিনী,
ঘরে-বাইরে তখন আলো- আঁধারির উথালপাতাল খেলা...
এরই মাঝে মেঘবালিকা তোমার আসন্ন পদধ্বনি শুনি...
আগুন রঙা শাড়িতে নূপুর পরা কালো পায়ের জলছবি এঁকে দিলে এই মত্ত বাউলের হৃদয়- কুটিরে...
হাসনুহানার সুগন্ধিতে ধুয়ে দিলে তার দহন জ্বালা...
বেশ তো ছিলাম আপন খেয়ালে স্তব্ধ ভীড়ের কোলাহলে,
তবুও অচেতনের মত মেতে উঠলাম তোমার সাথে জীবনের এক্কা- দোক্কা খেলার আসরে...
ধূসর ধূলায় মাখা এ নগর কেবল নিয়ে যেতে চায় মৃত্যুর জোয়ার ভাটায়...
আর আমি আরবার পথ ভুলে হারিয়ে যাই চোরাবালির শুষ্কতায়...
তুমি পারবে মেঘবালিকা!
তোমার সিক্ত আঁচলের প্রেমাবেগে আমায় ভিজিয়ে দিতে?
আমার এই আনমনা মনটিকে তোমার মৃদুমধুভাসে ভুলিয়ে রাখতে?













এবং একুশ

বাসব মণ্ডল




ঘুমঘোর
বাসব মণ্ডল



সত্যান্বেষী এই ছিন্ন দেহ
ভাঙা ছায়া বেয়ে
খুঁজে নেয়
অতল গহীন নিস্তব্ধতা

ধ্বস্ত সিঁড়ি বেয়ে
আমার ক্লান্ত দিন গুলো
মিশে যায়
শ্মশানের সানিত স্তব্ধতায়

নিঃসঙ্গতার অনায়াস আলিঙ্গনে
আমার ফসিল মন
খুঁজে পায়
নৈস্বর্গিক পূর্ণতা

জারজ ভ্রূণের ঠিকানাহীন আশ্রয়ে
আমি হারিয়ে যাব
স্বেচ্ছায়...







এবং একুশ

সুমনা পাল ভট্টাচার্য্য




ভালবেসে
সুমনা পাল ভট্টাচার্য্য




শহরের চারপাশ এত যান্ত্রিকতায় ছুটছে-
আবেগের চাদর জড়িয়ে তোমায় যে ডাকব
বড় দ্বিধা হয় আমার...

মনে হয়, যদি অবুঝ ভাবো!!
যদি বলো, বুদ্ধি - বিবেচনাহীন -
আমার বুকের ঢেউ যদি না ছোঁয় তোমায়-
তোমার ঘড়ির কাঁটায় যদি আটকে থাকে স্বপ্নের তারা-
যদি সেখানে কোথাও না আর দানা বাঁধে আনমনা ঝিমফুল-
তবে আমার সবটুকু 'আমি' জেনো বুদবুদ হয়ে মরবে...

আসলে, পাগলামি আছে বলেই পাগল হতে পারি-
আসলে, ভালবাসা আছে বলেই অপেক্ষা করতে পারি-
আসলে, হৃদয় আছে বলেই আকূল হতে পারি-
আসলে, বিশ্বাস আছে বলেই নিজেকে বাজি রাখতে পারি-

আমার খোলোসে গোটানো আছে যে একটুকরো অমলিন প্রেম
তাকে আজ স্বযত্নে রেখে গেলাম তোমার বুকের ওপর-
আর তাকে ঘিরে সাজিয়ে দিলাম আমার অভিমানী ঠোঁটের আলতো চুম্বন-
ভোরের নিষ্পাপ হিমগুলো নিষ্ঠুর রোদে ঝলসে যাওয়ার আগে সব রঙ মেখে নাও 
..."ভালবেসে"








এবং একুশ

প্রেমেন্দু মিশ্র




যন্ত্রণার মাথায় রত্নরা নাচে
প্রেমেন্দু মিশ্র



যন্ত্রণার মাথায় রত্নরা নাচে।
শূন্যতার পরে যদি কিছু থাকে খেলা।
এই সেই খেলা।
সেরার সেরা।

পাখিকে গোলাম হতে দেখেছি।
দেখেছি পায়ের মাটি কেমন গায়েব -
কংক্রিট।
দুই গোলার্ধ ভয়ে কাঁপে।
বিপদে যে ভাবে বুক কাঁপে আমাদের।

একরাশ দুঃখ, জ্বালা, ভুক, গরিবী নিয়ে নাচে দেহ।
জ্বালাময় দেহ।
অজ্ঞানতার দেহ।
তারা কাঁদে, বুক চাপড়ায়।
চোখ ভরে যায় জলে।
শোষণ, পীড়নের সময় -
ঠিক তখনই বিপরীতে রত্ন দেহ স্মিত হাসি দেয়।
ছোটায় জ্ঞানের বুলি।
যন্ত্রণায় তখন কাঁদে অভাবের দেহ,
তাচ্ছিল্যে, অযত্নে।












এবং একুশ

পলাশ কুমার পাল




প্ল্যাটফর্মটা ডাকছে আমায়
পলাশ কুমার পাল




প্ল্যাটফর্মটা ডাকছে আমায়
  ডাকছে ঐ রেলপথ-
বিকেল মানেই স্বপ্ন খোঁজে
  তোর বাড়ি তোর গলিপথ!
হাজার ভিড়ের যাওয়া-আসা
  তুই যে তখন একলা মন;
রেল ছুটে যায়, আমিও ছুটি
  যতদূর যায় দু-নয়ন-
রেলপথটা বড্ড মায়া
  সূর্য যখন যায় রে ঢলে;
সত্যি বলছি বুকের মাঝে
  সিগারেটেও আগুন জ্বলে...
কফিতে তোর সেদিন ঠোঁট
  নান্দিকতার কত কথা;
একলা ক্ষণে মেঘলা দিনে
  প্ল্যাটফর্মে সে কাব্যগাঁথা।
পাঠ করি তোর সকল কিছু
  যতটা ছুঁয়েছি তোকে;
প্ল্যাটফর্মেতে মিলব কখনো
  দুই চুমুক একই কাপে?
কফিতে আজ উঠছে ধোঁয়া
  বারান্দাটা বড্ড ভিজে;
প্ল্যাটফর্মটা ডাকছে রে আজ-
  আসবে কি তুই বঁধু সেজে?
বিকেল মানেই রেলপথ ঐ
  নিরুদ্দেশে হারিয়ে যাওয়া,
ভিড়ের মাঝে গল্পকথায়
  তোকে মনে অনেক পাওয়া!
ছুটছি তাই ছুটছি আজও
  হাঁটছি ঐ স্টেশন পথে...
তোর গলিতে তুই রিক্সা ধরিস
  আসিস ক্ষণেক বঁধু বেশে!
হারিয়ে যাব ট্রেনের মতো
  সমান্তরাল অচীনপথে-
রিক্ততা সব যাব ভুলে
  ভালোবাসার আতুরেতে!












এবং একুশ

অনুষ্টুপ শেঠ



রাস্তা
অনুষ্টুপ শেঠ



এই মগ্ন সময়ে, কি নিয়ে
বালুখেলা আর। কি দিয়ে পেরোতে হয়
ভস্মচরাচর –
এ জটিল সময়ে, জেগে উঠতে
আলিস্যি, জেগে থাকতে আলিস্যি, তবু
প্রতি রাত জাগরী প্রহর।

প্রহর থেকে প্রহরে,
মিথ্যের ঘরবসত জুড়ে গড়িয়ে পড়ে
অসমাপ্ত সুর
প্রহর থেকে প্রহরে
কান্নার মৃদু চলাচল, ইচ্ছেরা
দূর, সুদূর।

কি ভাবছ, এর পরও
আশা লিখব? তুলে নেব একবিন্দু আলো
অনন্দ অভ্যাসে?
সে সাহসও রাখি। কিন্তু
যদি সে স্ফূলিঙ্গ দাবানল জ্বালে
বৃক্ষলতাঘাসে

যদি আগুনের আঁচে, সব সত্য
ভস্মরূপে সর্বগ্রাসী হয়
পাহাড়ী জঙ্গলে,
আরো কি দুর্বোধ্য হব তবে?
তুমি জানো রাস্তা খুঁজে নিতে?
অমৃতে, গরলে...














এবং একুশ

অসিত বরণ চট্টোপাধ্যায়


তিয়াসা কে ছুঁয়ে
অসিত বরণ চট্টোপাধ্যায়



তিয়াসা কে ছুঁয়ে সারারাত,
স্বপ্নে অথবা দুঃস্বপ্নে অবিরাম
এবং বহুক্ষণ---
মাংসল বুকের উপত্যকায় যাযাবরী হাত,

আমি তো চিনি শরীরের অলিগলি তস্যগলি,
হৈমন্তী সুঘ্রাণ অথবা মরুভূমির তপ্তবালি।
তোমার তুমিত্বে আমার অনন্ত পিপাসা,
তোমার সুঘ্রাণে তুমি অন্তর্লীনা তিয়াসা।
দুর্বোধ্য গহন আঁধারে তুমি দুরাশা,
'যদি', 'কিন্তু' 'সুতরাং' এ সব হারানোর নেশা।

শিশিরের শব্দে পেয়েছি তোমায়
শুনেছি নূপুর নিক্কন হৈমন্তী অঘ্রাণে,
দেখেছি পৌষালী গাঢ় কুয়াশায়,
বসন্তে দিয়েছো সাড়া নীরব আমন্ত্রণে।
এবং বিষণ্ণ বিকেলে---
অথবা রাত্রি প্রসবা গোধূলি কিরণে
সেই এলে,..
বিকেলে ভোরের ফুল হয়ে
দহনের তীব্র জ্বালা নিয়ে,
কালবোশেখীর তীব্র আশ্লেষে
ফোঁটায় ফোঁটায় ভাসিয়ে দিলে দুকূল।

এখনও রাত বাকি, অনন্ত পিপাসা
ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা
আষাঢ়ের বৃষ্টি হয়ে ঝরো
মেটাও দহন জ্বালা।





































এবং একুশ

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬

সম্পাদকীয়






সম্পাদকীয়




প্রকাশিত হলো 'এবং একুশ' জুলাই, ২০১৬ সংখ্যা। এই সংখ্যার নির্বাচিত কবিরা হলেন -


পর্ণা সেনগুপ্ত
কাশীনাথ গুঁই
সুনিতী দেবনাথ
আরশাদ উল্লাহ্‌
রেজা রহমান
সুপ্রভাত লাহিড়ী
তাপসকিরণ রায়
পলাশ কুমার পাল
রমি গুপ্ত
সুরজিৎ চক্রবর্তী
সুমিত নাগ
গোপেশ দে
আলো বসু
সঙ্গীতা দাশগুপ্ত রায়
দীপ রায়
দীপঙ্কর বেরা
জাফর পাঠান
ইপ্সিতা মন্ডল
সিয়ামুল হায়াত সৈকত
সোমাদ্রি সাহা
শীলা বিশ্বাস








































































এবং একুশ

পর্ণা সেনগুপ্ত




যাত্রা

পর্ণা সেনগুপ্ত






খামখেয়ালীর বুনোন - এ
ধরা দেয় কিছু
হিসাব -নিকাশ এর গল্প,
কিছুটা হারিয়ে যাওয়া
কিছুটা কুড়িয়ে পাওয়া,
আর থাকে
কিছু অমলিন ক্লান্তি
অপার স্নেহধারায়
স্নাত,
স্বপ্নে রঙ্গিন কোনো একলা পাখি
পাড়ি দেয় নাম না জানা
কোনো এক দেশে,
কোনো ভুল ছদ্মনামে,
বিবাগী হয়ে।











এবং একুশ

কাশীনাথ গুঁই




ফতুর
কাশীনাথ গুঁই


রোজ বিকেলবেলা,
কালো মেঘের আনাগোনা।
বৃষ্টিবিহীন একঝলক
ফতুর হওয়া হাওয়া।
যেন নির্ঘুম রাতের
এলোমেলো পা ফেলা।
অসহায় নির্বিকার মুখে
শুধুই পালিয়ে যাওয়া।













এবং একুশ

সুনীতি দেবনাথ






প্রজন্ম
সুনীতি দেবনাথ



ইউক্যালিপটাসের সরু দীঘল পাতা পিছলে
সকালের চৈতী রোদ্দুর ছলকে ঝাঁপিয়ে পড়লো
টংঘরের দুয়ারে চিত্রার্পিত ধনবতী রিয়াংএর পেটে।
চার চারটে সুদীর্ঘ দিন রাত নৌকো বেয়ে পার হলো
ফেরেনি মরদ চাল নিয়ে উপরের লুসাই বস্তি থেকে,
পেটে জ্বলছে ধনবতীর জুমের আগুন ধিকিধিকি
সারাদিন সারারাত দমকে দমকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে,
আরেক বিপন্ন নবীন অস্তিত্ব হাত পায়ের সঞ্চালনে
ঘোষণা করেই চলেছে বেরোতে চাই আলোকে,
মোচড়ে মোচড়ে কঁকিয়ে উঠছে নারী বিস্ফারিত চোখ।
তারপর সূর্য যখন প্রখর উত্তপ্ত মাথার উপর —
আদিম জননীর মত ধনবতী রক্তস্রোতে ভাসিয়ে
রক্তাক্ত আবহে একটি শিশু উপহার দিলো
আগামী পৃথিবীর প্রবাহিত জনতার স্রোতে,
কান্নার উতরোলে সে তার আবির্ভাব ঘোষণা করলো,
তার কান্নার চমকে তপ্ত চৈতালি সূর্য উঁকি দিল —
সামনের রক্তিম পলাশ উঁকি দিল., প্রসবের রক্তিম
স্রোতে নিস্পন্দ নিস্প্রাণ জননীর পাশে দেখা গেল
আগামীর রক্তাক্ত ইতিহাস জেহাদে ক্রন্দনে আকুল,
বিষাদে মুখ ফেরালো সূর্য ঝরলো পলাশ গুচ্ছ ।




































এবং একুশ

আরশাদ উল্লাহ্‌






ফুটপাতে
আরশাদ উল্লাহ্‌


মৃত মায়ের লাশের পাশে
কাঁদছে শিশু গ্রীষ্মের রাতে,
রাজধানীর এ রাস্তার পাশে
মাগো তুমি মরলে কেনো?


গ্রাম ছেড়ে মা আমায় নিয়ে
আসলে কেনো - নগর মাঝে
খাবার কিছু মিলবে বলে
মিথ্যে আশ্বাস কেন দিলে?
মাথা গুঁজার - স্থান হলনা
ফুটপাত হল নতুন ঠিকানা!
এতো দালান কোঠার মাঝে
হাত পেতেছো সকাল সাঁঝে,
মরলে মা গো - ডেঙ্গু জ্বরে
যাওনি কেনো ডাক্তার ঘরে?

রাস্তায় মরে - পড়ে আছো
আমার কথা কিছু ভেবেছো?
কোথায় কাঁথা কোথায় বালিশ
কোথায় গিয়ে করবো নালিশ?

অট্রালিকা - আকাশ ছুঁয়া
তাতে যারা থাকছে এখন
তাদের কাছে বৃথা যাওয়া
তারা যে মা বড় মহাজন!

রাস্তার উপর মরে আছো
খাবার পাওনি আরামবাগে,
মহানগরীর খাবার কি তা
জানলে নাকো মৃত্যুর আগে।
আমায় নিয়ে - বাঁচতে এলে
আকাশ তলে - রাত কাটালে,
কাজ পেলেনা স্থান পেলেনা
দালান বাড়ির গেট খোলেনা!
প্রাণহীন সব মানুষ যেনো!
মাগো তুমি মরলে কেন?











এবং একুশ

রেজা রহমান




একজন
রেজা রহমান


যতই আসুক ফিরে সেই একই অপরাহ্ন-সন্ধ্যা সন্ধিক্ষণ
কোথায় সে ছায়াপথ আদিগন্ত দিব্য শাল মহুয়ার বন
সেই পথও বাঁক নেয় তোমার সিঁথির মত সরল যে ছিল
জলের কিনার ঘেঁষে পথের কিনারটুকু এবং মিছিলও
দিব্য সেই বাঁক বুঝি বেলাশেষে মুখোমুখি দাঁড়ায় নদীর
জনপদে ভিড়গুলো শোকসভা কমেনি অসুখ পৃথিবীর
যদি শিখে থাকি এই এতটুকু গণনার প্রকৃত নিয়ম
পৃথিবীর জনসংখ্যা আজ তবে এমনকি দুজনেরও কম











এবং একুশ

সুপ্রভাত লাহিড়ী




ছড়ায় স্নিগ্ধ হাসি

সুপ্রভাত লাহিড়ী




পথশিশুদের হাসি ছড়ায় স্নিগ্ধ হাসি
কারণ, আমরা দিলে তবেই ওদের পাওয়া
ব্যতিরেকে আবার দু-হাত পেতে চাওয়া....
না রেখেই কোনও প্রত্যাশা।


লালবাতির শাসনে
গাড়ির গতি স্তব্ধ,
বন্ধ কাঁচের ওপাশে
কচি একটা হাত
লেগে গেলো ঝাড়পোঁছে।
আমি নামিয়ে দিলাম কাঁচ
ও হতবাক, বিব্রত, হতাশ
বাধা পেয়েছে, পাবেনা কিছুই এখানে।

আমি মৃদু হেসে বাড়িয়ে দিলাম
একটা দশ টাকার নোট,
চকিতে কেঁপে উঠে ওর ঠোঁট
তারপর সেই হাসি, স্নিগ্ধ তৃপ্তির।

আমরা দিলে তবেই ওদের পাওয়া,
না হলে আবার দু-হাত পেতে চাওয়া
না রেখেই কোনও প্রত্যাশা!







এবং একুশ

তাপসকিরণ রায়



আগুন ফুলকি

তাপসকিরণ রায়





পলাশ কানে দুলিয়েছ


তুমি একলাটি যেমন ছিলে


লাল টুকটুকে বেনারসি দাউ দাউ জ্বলে উঠছে


এবং ধোঁয়ায় ব্যাপ্ত একটা দিন






আগুনের ফুলকি দানায় উৎফুল্ল ভেঙে পড়ছে


ঝলসে যাচ্ছে রং ফুল কথা


তাকাতে তাকাতে দৃষ্টি বিভ্রম


ভেষজ শরীরে তোমার লাঞ্ছিত দাগ ঢেকে যাচ্ছে










নির্লিপ্ত কুঠুরিতে হা হা হাসতে গিয়ে


মোলায়েম কথাগুলির কাব্য


অলংকরণ থেকে নগ্নতায় ফুরিয়ে যাচ্ছ তুমি


আলো থেকে অন্ধকার অনেক অনুশীলন প্রবণ।

শারীরিক ক্ষমা ভিক্ষাগুলি সময়ের আশ্রয়।









এবং একুশ

পলাশ কুমার পাল




চোখের গণ্ডীতে

পলাশ কুমার পাল




চোখ দিয়ে কাটা গণ্ডীর

ওপারে বিপদ

এপারে অবিশ্বাস।

পালাবার পথে শাড়ি বেছানো

ক্লান্ত জীবন আশ্বাস।




রাবণের দশমুখ দশদিকে হাসে

রক্তে সরবত্‍ ভয়;

দ্রবণের নামে

আতিথেয়তা প্রতি পাল্স খুন করে যায়...




বেঁচে থাকা তবু

কুটুমবাড়িতে রান্নাশাল সুগন্ধী জয়,

বদলানো পোশাকে রূপসজ্জা

পোশাকও একদিন ছিঁড়ে যায়-




চোখ দিয়ে গণ্ডী কাটা

দণ্ডীকাটা কোনো উপবাস,

মানদ হয়ে গেলে ভক্তিও ঘরছাড়া।

বলির পরে পাঁঠাই আস্বাদ।




তারপর বলিকাঠ

শূন্য থেকে শূন্যতায় চামড়াতে গুটি বসায়,

বসন্ত নেই তবু বসন্ত

জীবন এতই অসহায়?




এবং একুশ

রমি গুপ্ত



বাঁচা

রমি গুপ্ত





বেঁচে থাকা , সে তো হক !

নিজের বাঁচা --

সে তো নিজেকেই বাঁচতে হয়--

কিন্তু শুধু নিজে বাঁচা --

সে কি হয় ?








এবং একুশ

সুরজিৎ চক্রবর্ত্তী






কেমন আছ তুমি

সুরজিৎ চক্রবর্ত্তী



বাকি কথা যেটুকু ছিল

আজীবনের সঞ্চয়

হাটাহাটি

বয়ে চলা

অনন্ত চুম্বনের স্রোতে

ভেসে নির্বাক হয়

তোমার সামনে

রুপকথা।


কেমন আছ তুমি

আজকাল দিন প্রতিদিন

কি বদলে যাচ্ছো

বহমানতায়? তোমার হাসিতে

কি এখনও মাথা দোলায়

ইউক্যালিপটাস? চিরুনির শাসন

উপেক্ষা করে কপালের উপর

নেমে আসা সেই

অবাধ্য চুলের গোছা ....


কেমন আছো তুমি??




এবং একুশ

সুমিত নাগ





আদম
সুমিত নাগ



গভীর রাত
ঘুম থেকে জেগে উঠল ভামবেড়াল।
দুর্গন্ধ গা।
পেরিয়ে এলো বুদবুদ ওঠা নর্দমা,
টিনের চাল পেরিয়ে
মুখ তুলে তাকাল ওপরে।
ল্যাম্পপোস্টের তারে চাঁদ আটকে আছে,
হিম জমছে, ছেঁড়া প্লাস্টিক উড়ছে;
জ্যোৎস্নায় চকচক করছে মেঘ,
স্লেট পাথরের আকাশ
ঝকঝক করছে তার চোখ, তারা-
মণিতে মিলনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা
এবং
নিষিদ্ধ এই মিলন
অতিপ্রাকৃত আনন্দে ভাগ নেই তার
তুমি স্বর্গ থেকে নির্বাসিত
তোমার নাম দিলাম আদম
এই অলৌকিক রাতে তুমিই একমাত্র পার্থিব
আমি তোমার দুঃখ বুঝি।





অর্ঘ্য


ঘরের রঙ নীল পেরিয়ে যাই দুই পাড়
ঘরের নাম রাত, দেখছি যাযা না দেখার।

যুদ্ধে বড় বেশি ক্লান্ত; শরীরের ক্ষুধা
মেটাতে পারল না বিজিত জমি, নারী, সুধা।

শেষের শুরু তাই যেমন নেই, নেই তার
জানা তরবারি রক্ত ঝরিয়েছে কার।

কেবল জানা গেল এভাবে জ্বলেছে আগুন
আপনাআপনি বা আবেল হয়েছিল খুন

কেনের হাতে যবে, আজকে নয় শুরুয়াৎ;
গান্ধী, হিটলার, ভারত-পাক সংঘাত

টুইন টাওয়ার ঘোষিত মার্কিন নীতি
লাদেন, সন্ত্রাস উর্দিবাহী সম্প্রীতি

নির্দ্বিধায় ঝেড়ে সহজে ফেলে দিতে পারি
এমন যুক্তিতে- আমরা পোড়াইনি বাড়ী

বা লাশ কারো আগে সেদিন বহু আগে গত;
মেলাতে সব তাই হয়েছি নিয়ত প্রণত

সে আদি ও মহান হত্যাকারীটিরই পায়ে;
কাগজে দেখলাম নেতাকে নামাবলী গায়ে।












এবং একুশ

গোপেশ দে



ছেলেটা খুব ভুল বুঝেছে

গোপেশ দে



ছেলেটা খুব ভুল বুঝেছে

পাহাড় ভাঙছে একলা হাতে

সবুজ নরম মনের ভেতর বারুদ পোড়া ছাই

সূর্য হাতে খাচ্ছে বসে আগুনপোড়া চাঁদ

স্বপ্নমাঝে দেখে তাকে

হাসছে শিউলিফুলের মত

ঐ মেয়েটি ঐ মেয়েটি

দেয়ালে তার পিঠ ঠেকেছে

হাতখানা তার রক্ত জমাট

দেয়ালখানা ঘুষির বাহন

বুকের পাজর দুখের সলতেখানি

ব্যালকনিতে দাঁড়ায় যখন

মধ্যরাতে গ্রীলটা ঠেসে

পরিষ্কার ঐ রাতের আকাশ

ছুটছে তারা সপ্তর্ষিরা

চাঁদের হাসি ভেঙেছে বাঁধ

তবু বুকে জমাট ক্ষত

চাঁদটা বুঝি ডুবেই গেল

একলা হয়ে থাকাটা বেশ

মাঠের পড়ে তালগাছটা ও

বড্ড একা বড্ড একা

ছেলেটা খুব ভুল বুঝেছে

পাহাড় ভাঙছে একলা হাতে




এবং একুশ

আলো বসু





বৃষ্টির রূপরেখা

আলো বসু






ক্যালেন্ডার পাতা নাড়িয়ে ডেকেছে অনেক আগেই

এখন তো আকাশটাই দখলে
গুরু গুরু মাদল সঙ্গতে বর্ষণমন্দ্রিত দিন

ঝমঝম দিনরাত বাজাচ্ছে রাতদিন

যেভাবে যে বাজে
অপরূপ মুদ্রায় নৃত্যের তালে তালে

দূর থেকে কাছে আসে বৃষ্টি

আকাশের বুকে চুম্বন এঁকে দেওয়া

হাইরাইজের ব্যালকনি থেকে দেখেছি

সায়ন্তনের ভিজে ক্যানভাসে

শ্রাবণী মেঘেদের আড্ডাখানায় বর্ষা উৎসব

মেঘের কানায় কানায় কারুকাজ

বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় রঙ বদল

কেউ কেউ জানে

টিনের চালায় মেঘ ভেঙে পড়ে

ক্যানেস্তরা পিটিয়ে জলদ্গম্ভীর স্বরে রাত বাজে

রাত বেজে যায়

ভাঙা টালির ঘুমের ঘরে রাতের আসরে

ছোট বড় আধারে টুংটাং জলতরঙ্গ

কেউ কেউ জানে না

আমি জানি কত কারুবাসনার চারুকলারূপ

জলে ভেসে গেছে কত বর্ষায়

ভেবেছি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে

আর ফিরে দেখবে না কোন কালে কোন বর্ষণ

জলগর্ভজাত জলজ জীবন

জলের আর এক নাম নিয়ে বারবার কিশলয়

প্রাণ বাড়িয়ে দেয় প্রাণে

বৃষ্টির এক একটি অক্ষর

আমাদের নিস্তরঙ্গ বুকে টুকরো পাথর

তরঙ্গে তরঙ্গে অতল জলের আহ্বান

স্মরণবিলাসীর গোপন তোরঙ্গ অভিসার

রিমঝিম আবহে ফ্ল্যাশব্যাক

আমাদের মন্দ ভালো জলছবি ফোঁটায় ফোঁটায় লিখে

আবার লিখবে বলে

মুছে দিয়ে চলে যায় বর্ষার দিন

এদিকে নশ্বরতা আমাকে তুমুল বাজিয়ে চলে

ব্যথা বেজে যায় রিনরিন ৷











এবং একুশ

সঙ্গীতা দাশগুপ্ত রায়






পরকীয়া

সঙ্গীতা দাশগুপ্ত রায়



তুই চাঁদের ঘরে থাকিস
পেঁজা মেঘেতে মুখ ঢাকিস
সুযোগ একটু আধটু চাখিস...
তাতেই নেশার ঘরে বেশ


আমি হাঁটছি এক পা-দু পা,
সব রুস্তমই তো ছুপা
জেনে হাসিমুখে লুকোই
ছেঁড়া আঁচলে সব ক্লেশ


যেদিন তোর দোরে বৈশাখী-
ঝড়ে আছড়ে পড়বে পাখে
তুই মেলবি অলস আঁখি,
হাত ছোঁয়াবি তার ঠোঁটে


সে ঠোঁট তেষ্টা মেখে ফাটা
চাঁদের খিড়কি দুয়ার আঁটা
অতঃ প্রেম যমুনায় ভাঁটা-
তবু জাগন জোয়ার ওঠে


কোথায় শান্তি দু এক কুচি
খুঁজে ঠুকছি মাথা, বুঝি
তুইও ঘরকুনো অবুঝই,
তবু সামলাতে চাস টুক্


বঁধু তোকেই চিনে নিতে
ঘুরে মরছি অতর্কিতে
ফিরে আদর পেয়ালায়
দিচ্ছি বিষাক্ত চুমুক‌ ...













এবং একুশ

দীপ রায়




আহার সিরিজ


দীপ রায়






(১)

তৃষ্ণা


ঘিরে আছে কাকস্নান

গায়ে মেঘ লুটোপুটি I

জল দাও I গলা ভেজাই I

জ্যোস্না পাউরুটি I


(২)

কৃত্তিম


ধোঁয়াওঠা ক্যাসেরল

লা-পোলার এঁটো মুখ I

গাল ছোঁও কাঁটা-চামচ

আঙুলের অসুখ I


(৩)

উত্তাপ


নিভু আলো গ্যাসওভেন I

মৃদু ফাটল I ফিসফিস I

ঠোঁট জুড়ে বিভ্রম I

দাঁত ঢাকো কাপডিস্ I


(৪)

দিনান্তে


নিঃশ্বাসে কলহ I

ভাতে-ভাত I অজুহাত I

কব্জির কালঘাম I

বেঁচে থাক ঢিমে আঁচ I













এবং একুশ

দীপঙ্কর বেরা





অন্য মাত্রায়

দীপঙ্কর বেরা







অপ্রাপ্তির দায় নেয় না


আকাশ জল মাটি বাতাস,


ভেতরে যে হৃদয়ী ভাঙচুর


সৃষ্টি করা বঞ্চিত উপখ্যান


তাতেই চলে প্রাপ্তির টানাপোড়েন।


দুদণ্ড গাছ হয়ে ভাবা মাটি কথা


ফুঁ দিয়ে বাতাস ছিনিমিনি


জল গভীরে নষ্ট হাবুডুবু


বৃথা সরলের গরল কথা


গল্প রাত্রির ঘুম পাড়ানি গান।


কিছু অকবিতাই হোক না


রক্ত থামিয়ে প্রেম


অবুঝ দুজন অনতি কথোপকথন।


আর কি


সবটাই তোমার আমার


স্বভূমি সংলাপ।











এবং একুশ

জাফর পাঠান





দুখানন্দ


জাফর পাঠান







দুখের সাথে চলতে চলতে কথা বলতে বলতে


সময়ও আমায় সময় দেয়নি- দুঃখকে ভুলতে।






এক ঝলক পলকের উল্কাপিন্ড- দূর গগনের


ঋষি-মুনি আমি দুখানন্দ খোঁজা গভীর মগনের।






সেই কবে আমাকে নাকি সুখ এনে দিবে কেবা কারা


তুলে পাল-ধরে হাল, তবুও হইনা আমি দিশেহারা।






দুখের সাগরে ঘূর্ণি তুলে- ঘূর্ণন থেকে চাখি সুখ


আমি এখন দুখি নই, সুখ পাওয়ার নাই ভুখ।






উষা থেকে গোধূলি, গোধূলি থেকে মধ্য রাত


হারিয়ে যাক সব বছর- শূন্য হয়ে যাক বরাত।






কোন কিছুকে ভয় পাইনা আর- চাইনা সুখানন্দ


দুখের সাথে ভাব জমিয়েই- খুঁজে নেই দুখানন্দ।



























এবং একুশ

ঈপ্সিতা মন্ডল




মাটির টানে

ঈপ্সিতা মন্ডল




বাদল ঝরা দিনের শেষে মেঘবালিকা এসে,

বললে আমার কানে কানে, বললে আমায় হেসে,

`আসো যদি আমার সাথে ওই পাহাড়ের চূড়ায়,

তোমায় নিয়ে উধাও হব পাগল মেঘের ভেলায়;

রামধনুকের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে শেষে,

হাজির হব আমরা দু'জন ইন্দ্রদেবের দেশে;

শোক-দুঃখ-আঘাত-ব্যথা নেই তো সেথায় কিছু,

সারাটা দিন কাটিয়ে দেব মেঘের পিছু পিছু !

সূর্যদেবের রথে চড়ে ঘুরব সারা আকাশ;

কিংবা নেব মনের সুখে পারিজাতের সুবাস ।

তোমার তরে নদির তীরে রইব অপেক্ষায়, –

পক্ষীরাজে উডিয়ে নেব একটি লহমায় !'

মেঘবালিকার কথা শুনে সইল না আর তর, –

রাঙামাটির পথটি বেয়ে চললেম নদী-চর । ।।




গোধূলিবেলার আকাশ তখন খেলছে রাঙা সিঁদুর; –

এমন সময় শুনতে পেলেম করুণ বাঁশির সুর !

সে যে আমার রাখাল ছেলে – ডাক দিয়েছে আমায় , –

তারে ছেড়ে যাচ্ছি আমি কোন সে সুখের আশায় ?

সেই তো আমার ইন্দ্রধনু , সেই তো আমার পারিজাত,

তারই স্পর্শে ভুলব সকল শোক-দুঃখ-আঘাত;

তার মধুর হাসি ভাসাবে মোর জগৎ-পারাবার,

তার বাঁশির সুরে দেব পাড়ি তিন-ভুবনের-পার !

ছুটব দু'জন হাওয়ার সাথে তেপান্তরের মাঠে;

সাঁঝের বেলা কাটবে মোদের কাজ্‌লাদিঘির ঘাটে; –

কাজ্‌লাদিঘির কালো জলে দেবে তখন ধরা,

স্বর্গলোকে আছে যত চন্দ্র-গ্রহ-তারা ! ।।
















এবং একুশ

সিয়ামুল হায়াত সৈকত






ছায়াধূপ


সিয়ামুল হায়াত সৈকত






*


এলেই শুনি বুকের শহরে,


নিভৃতে তুমি সমুদ্র হও সমুদ্র জুড়ে


ছায়াগুলো কেমন বুকপকেটে রাখি-


সকালের মতো কয়েকটা শহর জুড়ে।


*


রাত্রিগুলো কাটিয়ে ফেলি চুপচাপ


সকাল হলেই ছায়া জমে খুব খুব


প্রিয়, ভালোবাসি আজন্ম, তোমায় ছুঁয়ে বাঁচি!


মেঘ বলে উড়ে যাওয়া আপাতত ভুলে যাও


তোমার ছায়াগুলোতে আমার বাড়ি!


*


ঢেউ এলো বুঝি?ছায়া দিয়ে রেখো,


ঘুম পেলেই ঘুমিয়ে যাব ঠোঁটের আস্ফালনে


খুব যত্নে তোমায় নিয়েই বাঁচি, আমি..





এবং একুশ

সোমাদ্রি সাহা



চাবিগুলো কে নিতে চাও

সোমাদ্রি সাহা





হৃদগোপনে লুকিয়েছি ভালবাসার অনন্ত সুখ

চাবিগুলো সব মুক্তির জেনেও গুছিয়েছি অসুখ

তোমায় দেব কোনও জন্ম শেষে।

অমর্ত্য চাবিতেই মুক্তির স্বাধীনতা প্রণাম প্রাপ্ত

কিসের জন্য এতো সম্পত্তি গোছাছো অপর্যাপ্ত

একটু ডাকো আমায় ভালবেসে।

অনেক কাজ রয়েছে তাই অপেক্ষা করছি জীবন

সুযোগ্য তৃতীয় বিশ্বের চাবিওয়ালা, তুলবো প্লাবন

বাঁচতে চাই সৃজনশীলতা প্রকাশে।

.

এই চাবিতে তুমিও খুলতে পারো মনের বন্ধ চোখ

এই পৃথিবী চেতনার-স্বাধীন-শ্রমজীবী-কৃষকের হোক।









এবং একুশ

শীলা বিশ্বাস








পৌনপুনিকতা
শীলা বিশ্বাস



আকাশ- বাতাস- নক্ষত্রকে এখনও ভাগ করতে পারিনি
পারলে কবেই বিভাজনরেখা টেনে দিয়ে বোলতাম
এটা এলিট আকাশ ,ওটা স্লাম আকাশ
এটা ধনী বাতাস, ওটা দরিদ্র বাতাস
এই সূর্যকিরন মহাজনদের, ওই কিরণ কৃষকের

পঞ্চপাণ্ডব ভাগ করেছিল দ্রৌপদীকে
আমরা ভাই- বোনেরা মাকে ভাগ করেছি
জাতির মহান নায়করা দেশ
অর্থে ক্ষমতায় ভাষায় আর ধর্মে
ভাগ হয় মানুষ সাদা কালো দুরঙে

ভাগাভাগি অঙ্ক কোনোদিন মেলেনি
একই ঐতিহাসিক ভগ্নাবশেষ
পৌনপুনিকতা চলতে থাকে
যীশু বুদ্ধ চৈতন্যের পৃথিবীতে
কালভেদে প্রস্ফুটিত হয় ক্লেদজ কুসুম ।















এবং একুশ

বুধবার, ১ জুন, ২০১৬

সম্পাদকীয়






প্রকাশিত হলো  'এবং একুশ' জুন, '১৬ সংখ্যা

এই সংখ্যার নির্বাচিত কবিরা হলেন -


স্বপন দেব
ডঃ সুজাতা ঘোষ
প্রণব বসুরায়
শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
তহমিনা সাম্মি
রণদেব দাশগুপ্ত
সায়ন্তনী বসু চৌধুরী

সায়ন্ন্যা
চয়ন ভৌমিক
অদিতি চক্রবর্তী
অনুপ দেবনাথ
অ্যাঞ্জেলিকা ভট্টাচার্য
পলাশ কুমার পাল
পিনাকী মণ্ডল
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম
সুরজিৎ চক্রবর্ত্তী
মনোজিৎকুমার দাস
দীপ রায়
সীমান্ত হেলাল
অরূপ গোস্বামী
জাফর পাঠান








এবং একুশ

স্বপন দেব




মহুলডিঙ্গার বনে…
স্বপন দেব



আবার চলে যাব মহুয়ার দেশে
আবার চলে যাব মেঘলা দিনের গন্ধে
হাঁসুয়ার মত তীব্র হাওয়া এসে
নক্ষত্রের নকাব ওড়াবে, হে অরণ্য
কথা বলো কথা বলো কথা বলো, বলে
ভ্রূ-সন্ধিতে লাল সূর্য, ডেকেছিল উপত্যকাকে ।
কেকারবে দীর্ণ করে অরণ্যের পীনদ্ধ স্তব্ধতা—
মহুলডিঙ্গার বনে এসো প্রিয় সখি, কথা হবে ।
দূরে কোথাও এখন ছুটে যাচ্ছে সম্বর হরিণ
অথবা সন্ধ্যের পর প্রকৃতিতে প্রকৃত নি:শ্বাস
এলায়িত চুলে গহন হিম রাত্রি
ছুটে চলেছে জীবন ...
ভীষণ ভীষণ জীবন ...
















এবং একুশ

ডঃ সুজাতা ঘোষ


অনেক নাজানা
ডঃ সুজাতা ঘোষ



মুসলিম ধর্মের আর একটা কি যেন আছে রে?
কি আছে?
আরে কি একটা যেন বলে............
জানি না।
ওহো, খ্রিষ্টান।
ওফ মা, ওটা অন্য একটা ধর্ম।


আমার মা অনেক না জানা সঙ্গে নিয়েই
জীবনের তিন – চতুর্থাংশ কাটিয়ে দিয়েছে বিনা দ্বিধায়।
তাহলে দ্বিধাটা কার?
হয়তো আমার, অনেক বেশী শিখে ফেলেছি
তাই ভুল কানে এলেই অস্বস্তি হয়।
অথচ, আমার মা দিব্যি ভাত – কচুবাটা রান্না করে
সময়মত ঘরের সকলের মুখে খাবার তুলে দিয়ে
দিনের শেষে ঠাকুরকে প্রণাম করে
বিছানায় বুকের কাছে হাত জড়ো করে ঘুমিয়ে পড়ে।

আমার রাত শেষ হয় না কেন চোখ বুজে?
কেন এপাশ – ওপাশ করতে হয় বালিশ আঁকড়ে?
কেন মাসের শেষে সমস্ত রিপোর্ট হাই অ্যালার্ট জারি করে?
আজকাল ওষুধেও তো কাজ হচ্ছে না ভালো।
তাহলে কি মায়ের অজানার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক সুখ?

সোজা সরল জীবনগুলো জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের সাথে
বাঁধা পেতে পেতে চড়ায় গিয়ে মিলিত হচ্ছে ক্রমশ।
আচ্ছা, চড়ার নীচে কি জল আছে?
আর সেই লাল চোখওয়ালা পাখিটা?
মা কোলে করে ভাত খাওয়াতে খাওয়াতে বলত, ও সাপ খুঁজছে।
আচ্ছা, আমরা সবাই কি সাপ খুঁজছি?
কি বিষধর!
সাপ না আমরা?
মাগো, তুমি কি ঘুমিয়ে পড়েছ?
আমার চোখে ঘুম আসে না কেন?

সকালের সূর্যটা যে বহুদূর।
তুমি কি একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে
কতদিন ঘুমাই নি ভালো করে।
আমার জানা পৃথিবীটাও আজ বড়ো অজানা
তুমি কি জানো মা, কোন দিকে সূর্য উঠবে?
মাঠের ওপারটা লালচে হচ্ছে বড়।
আমি এবার ঘুমাব।।







এবং একুশ

প্রণব বসুরায়



মৃত
প্রণব বসুরায়




এ শহর আজ মৃত, জমানো বারুদ ভিজে
পাহাড় গুটিয়ে রাখি, নদী চলে যায় নিজে
#
নদী তো যাবেই নিজের গমন পথে
কেউ কি আছেই যাবে সে ভগ্ন রথে!
#
মরেছে শহর, মারা গেছে পাখি, আমিও হয়ত বা
আমার পিন্ড কাক খেয়ে যাবে, ডাকো তাকে, খা খা...









এবং একুশ

শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়





স্বপ্ন বিলাস
শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়





স্বপ্নকে তুমি ভালবাসো? বল সত্যি কথা
স্বপ্ন তো কারও ক্রীতদাস নয়, সে নদী বহতা
স্বপ্নই শুধু জানে কত সুখ স্বপ্ন দেখায়
তোমার তো তার হাত ধরবার নেই কোনো দায়
তবুও স্বপ্ন চোখের তারায় কবিতার মত
শব্দের জালে আবডালে রাখে গোপন ক্ষত
স্বপ্নের ঘরে প্রজাপতি ওড়ে এবেলা ওবেলা
স্বপ্নের রঙে সাজাই আসলে ঠিক হোরিখেলা
দিনগোনা কাকে বলে সে খবর স্বপ্নই রাখে
রাতজাগাপাখী ডাক দিয়ে যায় তোমাকে আমাকে
স্বপ্নপূরণ, সে তো শুধু এক অলীক মায়া
চিরদিন এই দোটানায় মরে ছায়া ও কায়া
স্বপ্ন আসলে তোমার আমার বাঁচার রসদ
ছুঁলেই জীবন উড্ডীন ডানা, সেই সম্পদ
কেউ জানে তার সাথে পথচলা, কেউ ছেড়ে যায়
অলীক স্বপ্নে মাতলে, নিখাদ স্বপ্ন হারায়।













এবং একুশ

তহমিনা সাম্মি



আজ আবার রাধাচূড়ার নিচে
তহমিনা সাম্মি




তখন আমি অল্প বয়সী মেয়ে
সম্ভবত নারী নই তখনো
সে কলেজে পড়ুয়া দামড়া ছেলে
একদিন কাছে এসে চুপিচুপি বললে
'এই, আমার বউ হবে'?
আমি তাজ্জব বনে যাই,
একটা মেয়ের সামনে কেউ এমন কথা বলে?
আমি রাগে গরগর চণ্ডী
হাতের মুষ্ঠি দিয়ে রামধোলাই



এরপর... সে বছরই গ্রীষ্মের কোন এক বাদলা দিনে
বৈশাখী বৃষ্টির পর স্কুল থেকে ফেরার পথে
ছেলেটি দাড়িয়ে রাধাচূড়া গাছটার নিচে
দু'হাত ভর্তি লাল-হলুদের সমারোহ
আমাকে খুব করে ডেকে বললে,
'অনেক কষ্ট করে এগুলো পেরেছি এনেছি, নেবে?
না নিলেও রাগকরবো না, কারণ, আমি আজ ভীষণ খুশি
শোনো, আজ তোমাকে একটা গোপন কথা বলি,
আমি শুনেছি, রাধাচূড়া আর কৃষ্ণচূড়া গাছের মাঝখানটায় দাড়িয়ে
যদি কেউ তার ভালোবাসার মানুষকে চায়, তবে সে তাকে নিশ্চিত পায়?
তুমি জানো আমি কাকে চেয়েছি'?

আমি দু'চোখ ভর্তি প্রশ্ন নিয়ে তাকাতেই বললে,
'তোমাকে
তোমাকে চেয়েছি
দেখো একদিন তুমি আমার হবেই'।

একথা বলেই একরাশ রাঁধা-কৃষ্ণ উড়িয়ে দিলে দখিনা হাওয়ায়
বললে, 'জানো? রাঁধা-কৃষ্ণ কে ছিলো!'

আমার কি জানি কি হলো...
আমি দৌড়, ভোঁ... দৌড়...

মাইরি বলছি, সেদিন সারারাত ঘুমাইনি
এক মুহুর্তও এক করিনি দু'চোখের পাতা
সত্যিই কি আমি অই ছেলেটার হবো!
দেখতে নেহাত মন্দ নয়, কিন্ত
কেমন জেনো, একটু খানি পাগল পাগল
ছন্ন ছাড়া ভাব
নেই লোকলজ্জার ভয়
শাসন বারণ কোনোটাতেই রুখে না তাকে
মেধা নেহাত মন্দ নয়, পড়াশুনা করে নাকি ঠিক করে!
নাকটা লম্বা আছে, ঘ্রাণশক্তিও প্রখর
নইলে, আমার গন্ধ শুকে ছুটে আসে কেমন করে?

গল্প যদি সত্যি হয়! সত্যি যদি হয়?
ধুর, এমনটা আবার হয় নাকি?
যদি হয়!
বুকে দুরু দুরু ভয়!
...............

ক'দিন পর আবার সে দাড়িয়ে অই রাধাচূড়ার নিচে
ছলছল চোখ যেনো বর্ষার নদী
উছলে পরবে এক্ষুনি
ম্লান স্বরে আমাকে ডেকে বললে,
'আমি কাল চলে যাচ্ছি, অনেক দূরে
মহাপতঙ্গে চরে উড়ে যাবো
ভিন দেশে
তুমি আমার অপেক্ষা করবে?
না করলেও ক্ষতি নেই, কারণ আমি জানি তুমি আমারই হবে
সেদিন স্বপ্নে রাঁধা-কৃষ্ণ যুগলে এসে আমাকে বলে গেছে
ফিরে এসে তোমাকে রাধা-কৃষ্ণর গল্প শোনাবো'

এই বলে একগুচ্ছ হলুদ রাধাচূড়া আমার হাতে ধরিয়ে দিইয়েই
মিলিয়ে গেলো, মিলিয়ে গেলো দূরে, বহু দূরে।

এরপর বারবার বহুবার এসে দাড়িয়েছি
এই রাধা-কৃষ্ণর মাঝখানটাতে
তারপর... একদিন আমিও চলে গেছি
অনেক অচেনা পথ মাড়িয়ে
১৩ বছর পর... আজ আবার এই চেনা পথে
একরাশ লাল-হলুদ ফুল হাতে
বৈশাখী বৃষ্টি জলে ভিজতে ভিজতে উর্ধ্বপানে চেয়ে দেখি
আমি দাড়িয়ে রাঁধাচূড়া গাছটার নিচে।
উপরে পতঙ্গ, মহাপতঙ্গ ওড়ে।

















এবং একুশ

রণদেব দাশগুপ্ত



যদি একটু 
রণদেব দাশগুপ্ত


যদি একটু লিখি এই নড়বড়ে সেতুর কাহিনি,
যদি একটু লিখি এই ফোঁটা ফোঁটা রোদের চঞ্চল,
যদি একটু লিখি এই বৃষ্টিহীন মেঘের আলাপ-
তবে কি পৃষ্ঠা জুড়ে
ফুটে উঠবে তোমার চাওয়াটি ?


যত খুঁটিনাটি
সোহাগী প্রকল্পে ছিল
রামধনু নারীটির মুখে
তাকে তো কবিতা বলে, নাকি ?

হীরামন পাখি
যতই রূপকথা দিক
আমাদের পথের বিরাগে
সেইসব জীবনের ঝুলি ঝেড়ে
মায়াময় মার্বেলের সাদা-
আমি তার নাম রাখি
জ্যোতির্ময় হাসি ;
এইটুকু যদি লিখে রাখি ?













এবং একুশ

সায়ন্তনী বসু চৌধুরী



ছাপ
সায়ন্তনী বসু চৌধুরী


সিঁড়িগুলো ঠিক পেরোব......
কিন্তু পায়ে পায়ে
ওৎপাতা ফণা; তাই
কালোটা একটু বাড়তেই
অামি খপ করে পেড়ে এনেছি
গোটা চাঁদ.......
অামি সাহস করে
স্তন ঢেকেছি সাদা
অালোয়ানে.....
দাগ লাগাবি ?
অায় এক সমুদ্র
বিষাক্ত লাল অার শান্ দেওয়া
কুঠার নিয়ে ......
হারের ভয় তো নেই !
রক্ত শুকোলেই কালশিটে;
মুছলেও যাবে না |
মরি যদি ;ছাপই জেগে থাকবে
সিঁড়িতে....... রক্ত অার পায়ের ........













এবং একুশ

সায়ন্ন্যা



শীর্ষক বিহীন 
সায়ন্ন্যা


শোন হৃদয় ; আমি জানি কতো অসংখ্যবার কথা খুঁজেছ তুমি . কতো সহস্রাব্দ শুধু হাতড়ে বেরিয়েছ উপযুক্ত শব্দসাধন . তোমার প্রতিটি অন্বেষণ প্রেম বলে গেছে . বলে গেছে ভালবাসো . . জড়িবুড়ি করে আঁকড়ে ধরো . . . ছুঁয়ে ছুঁয়ে দাও সওব টুকু. . . . .
- তোমায় খুঁজছি . . কতকাল খুঁজছি , জানতে পারোনি বুঝি?
- খুঁজবে কেন ? ভেতর বার সবটা জুড়েই . . .
- কই আর তেমন করে ?
- তবে কেমন করে চাও ?
- প্রথমবার মা শেখাতো কেমন করে " অ " এর গলা টানতে হয় ! আমি পারতাম না . . . বিলকুল পারতামনা . . . গোল্লা মতো পাকিয়ে রেখে দিতাম অধুরা . . . মা বললেন !
- কি বললেন ?
- বললেন ভালবাসার জনটিকে বাঁকা কাজল দিতে নেই বাবা . গোল্লা পাকিয়ে সুন্দর করে গলাটা টানো . . যেন সুর ফুটে ওঠে ঠিক ঠিক করে . সেই দিন বুঝলাম .
- বুঝলে ? কি ? কেমন গো ?
- বুঝলাম , সমস্ত অক্ষরের বুকে সুর থাকে .
- যেমন ? শুনি ?
- যেমন ধরো . . . এই যে চলছে বসন্ত . . . ওই বাঁ দিকের ন্যাড়া গাছটা দেখো . . . দেখলে ? . . . দেখলে কেমন নবীন পাতা . . শিশু শিশু হাত বাড়িয়ে ধরেছে . . অথবা একটা রাধাচূড়া ফুলই যদি ধরো . . . বুঝতে পারছনা . . . সর্বোত্কৃষ্ট প্রেমের রাগ বাজছে নিরন্তর !
- বুঝলাম . . কিন্ত ! খুঁজছিলে কেন ? নতুন করে কেন ?
- খুঁজতে হয় গো ! তুমি বুঝবে না . এক্ একটা কথা , শব্দ , অক্ষর অনেক যন্ত্রণা দেয় . . . খানিক ধরো প্রসব বেদনা . . বেদনার জোর তেমনটি না হলে আর প্রসব হয় কেমনে ? . . . কিছু বলতে পারলে আরাম . . ভীষণ আরাম . . . মেজাজ হাল্কা . . রাতে ঘুম ভালো . . কিন্ত জোর আসছে না . . . তুমি না থাকলে যে বোবা কালা মন . . . সাড়া শব্দ নেই . . . মড়া হয়ে বসে থাকি সারারাত !
- বুঝলাম ! তবে শুধু নিজের কথা কইতেই দরকার আমায় ! আর কিছু নয় ?
- এতো অভিমান তোমার ? এতো ভালোবাসো আঁকড়ে থাকতে ?
- বাসি ! বাসিই তো !
- তবে শোন . . . সেই জন্মের পরপর যখন কথা কইতে পারতামনা . . . মা চুমো খাচ্ছেন . . . আমি বোবা . . বাবা স্নেহে কোলে করছেন . . বলতে পারছিনা কিছুই . . . খেতে ইচ্ছে করছেনা . . না বলবো ; ভাষা নেই . . . খেলতে খেলতে চোট পেয়েছি . . কাঁদছি আকুল . . কোথায় লেগেছে কেমনে জানাবো ?
- বেশ জানো ভুলিয়ে দিতে ! !
- সে আর হতো কি ? তুমি না থাকলে ? বিদেশ বিভুঁইয়ে তোমায় পাইনে. . . সারাবেলা মন আনচান . . . কখন যাই তোমার কাছে . . . কখন হয় প্রাণের আরাম !
- কেবল নিজের দরকার ! আর আমার বেলা ?
- তোমার বেলা জান কবুল ! মরতে রাজি . . . ওদের মতো নির্ভয়ে গুলি রাখবো বুকে . . . তোমার জন্যে সাত সমুদ্র পার দিতে পারি . . তোমার জন্যে অনশন করবো এক্ জীবন . . . তুমি বললে ঝান্ডা হাতে নষ্ট করবো শত বসন্ত . . . প্রতিটি ফাগুনে দোল খেলবো নিজেরই রক্ত দিয়ে . . তুমি আমার বিপ্লব . . জন্মপত্রে পিতার পরিচয় অসম্পূর্ণ প্রয়াস . . . জননী ভিন্ন কে আমি ?
আমি একটি মাংস পিণ্ড . . . আমি জরায়ু নিংড়ে বেরিয়ে আসা চোখ , নাক , কান ভিন্ন কিছুই নই মা কে ছাড়া .
- তবে তুমি ভালোথেকো . তুমি আরামে থেকো . বিজাতীয় অনুভূতি দূরে সরে যাক্ . তুমি শীত , বসন্তের প্রতিটি বিকেলে কোলে মাথা রেখে মন ভরে বোলো ; তোমার সমস্ত ছেলেবেলা , বেড়ে ওঠা , প্রেম , যৌনতা , বহিষ্কার ! আমি রইলাম শিয়রটিতে












এবং একুশ

চয়ন ভৌমিক



খাদের কিনার থেকে দাঁড়িয়ে
চয়ন ভৌমিক





এই যে অন্ধকার শোনো,
পুরোনো বন্ধুত্ব ছুঁড়ে ফেলে দিলাম এবার।
কথাবার্তা যা দেওয়া ছিল এতদিন,
সব থাক যেখানে যা ছিল,
সব ভুলে যাওয়াই ভালো এখন।
ঘুমের মধ্যে যত খাপছাড়া স্বপ্ন দিয়েছিলে
তাদের নিয়ে একা হাঁটা বন্ধ হয়েছে অনেকদিন, নিশ্চিত আমি।
কিছু দৃশ্যে তোমার অলীক বীজ, আজও
খুঁচিয়ে যাচ্ছে আমার নৈশব্দের দরজা যদিও।
তবুও হামাগুড়ি দিয়ে আমি চলে এসেছি
এক সরুগলির মধ্যে রাখা,
অশরীরি আলো পাথরের ঢিপির পাশে।
শৈত্যপ্রবাহের মাঝে আমি তুলেছি উষ্ণ কলার,
নিয়ন দেবতার মন্দিরে শব্দহীন,
গেয়েছি প্রার্থনা সংগীত।
গত শতকের যুদ্ধ, শহীদ বেদী, জেনোসাইড,
চিনিয়ে দিয়েছে আসল রূপ তোমার, ও আঁধার।
তুমি বরং ফিরে যাও, তোমার আদিম গুহার ভিতর,
তোমার কৃতকর্মের ইতিহাস লিখে দাও,
ভবিষ্যতের অভিশাপ কুড়ানোর জন্য।
মৃত্যু ডাকা রাত তোমার বক্ষলগ্না রমনী,
তাকে ফালাফালা করে নেমে আসছে
বিদ্যুৎস্পন্দ ভোর, পাখিদের উজ্জ্বল ডানা ।
ধ্বংসের একতরফা চুক্তি ছিঁড়ে ফেলা যাক নির্দ্বিধায়।



































এবং একুশ

অদিতি চক্রবর্তী


আলোনা  আলাপন
অদিতি চক্রবর্তী



কত জন্মখরচে মৃত্যুঠিকানা করি বদল
আমারতো দু'মুঠো কেবলই সম্বল
একবার তাই পাতি টানটান
কখনো উপুড়ে দিই বাম ঢেকে ডান।
এরপর ছেঁড়া মেঘ কাছে এলে
তারার পিদিমখানি জ্বেলে
শনশন হাওয়াদের মন্ত্র পাঠাই
ধরতাই ঠিক হওয়া চাই।
সংসারে সকলেই চায়, খাবে মহাভোজ
কবিতা খাতায় ছাইপাশ লেখাগুলো রোজ
আলোনা তখন
ঠিকানা বদলে যায় পর ও আপন
কেন লিখি? কেই বা কবিতা খুঁজে পড়ে!
তির তির নদী এক বয় অন্তরে।
প্রশ্ন অমূলক জেনে
গোপন তরঙ্গ টেনে
কুমারী পাতাদের ফিসফিসে বলি
একদিন ধুমধাম বাঁধবোই গিঁঠ
কাছেপিঠে কেউ শুনে ফেলে অচকিতে
বাতাস কইতে থাকে দূয়ো দিতে দিতে,
আমায় তুমি ভাঙছো যেমন দুনিয়াদারি
গয়নাগাটি পরে আমি বাহান্নপীঠ।















এবং একুশ