শুক্রবার, ১ মে, ২০১৫

তন্ময় গুপ্ত


নিশা-মা
তন্ময় গুপ্ত



আজ সকালে ভোরের আকাশ আমায় কেন ডাকল না ?
নতুন ফুলের মধুর সুবাস আমার সাথে থাকল না !
উদার নিশা তোমার আঁচল ছড়িয়ে দিলে চোখের আগে,
সতর্কতার দৃষ্টি তোমারশ্রান্ত আমার রোদ না লাগে!
আমি তখন ছোট্ট শিশু কপোল ভরে তোমার চুমা
স্নেহের পরশ সকল মনন বললে আরও একটু ঘুমা।
বললে রুক্ষ কঠিন পথে চলতে হবে জীবন ভরে
যুদ্ধ শেষে জয়ীর বেশে আসবি ফিরে মাতৃক্রোড়ে।
নিঠুর আঘাত ঘাত প্রতিঘাত শরীর মনের হাজার ক্ষত,
মাতৃহৃদয় জুড়িয়ে দেবে শ্লেষ অপমান ব্যঙ্গ যত।
ধৈর্য –যুদ্ধ জয়ের মন্ত্র দেখিয়ে দিলে সেই দিশা।
মাসকল ক্লান্তি সংহারিণী তুমি আমার সেই নিশা-মা।










এবং একুশ

অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়

কৃষ্ণকলি র প্রেম
অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়



চোখের পাতায় এ কার প্রতিচ্ছবি!
বুকের ভেতর এ কার ছোঁয়া লাগে?
এ কোন নেশায় জড়িয়ে পড়েছি আমি,
এমন তর হয়নি কেন আগে!!
মাথার কাছে তুমি কি এলে প্রিয়?
বুলিয়ে দিলে তোমার চেনা হাত,
এ সুখ পেলে প্রহর জাগতে পারি,
জীবনভর এমনি সারারাত।
সেই যে তোমার শরীর শরীর ক্ষুধা,
সেই যে তোমার এক পৃথিবী কাম,
কোথায় গেল, বলোনা প্রিয়তম,
কোথায় সে সব, বলোনা ঘনশ্যাম!?!
এত দিনের পরে কি পড়ল মনে
মুখপুড়ি এই কালোমেয়েটার কথা,
কি হল সিরাজ, কি হল প্রিয় সাঁই
প্রেমের সময় কেন এই নিরবতা?
মনের মানুষ তোমায় করেছি কবে(ই)
তুমি তো তখন চেয়েছ শুধু কাম,
আমি পূজারিণী তুমিই আমার সব-
কখনো আল্লাহ্‌, কখনো ঘনশ্যাম।






এবং একুশ

শিবলী শাহেদ

অপেক্ষা
শিবলী শাহেদ



স্প্রিং-বলটা পড়েই গেল।
বেখেয়ালি সিসিলিয়ার হাত থেকে
একবারে কেন্দ্রজলে।
সেদিন থেকেই তো বসন্তের শুরু।
আমরাও ভোজবাজির উৎসবে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম খুব।
ওটাই ভুল।
বসন্তরা হারিয়ে গেল
হারায় নি কেবল বুড়ো সি-ম্যানের অপেক্ষা।
সে আজও সিসিলিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পত্র লেখে।
সিসিলিয়া সন্ধ্যার বোন,
তোমার স্প্রিং-বলের অপেক্ষায় আমরা
আজো এই শহরের আত্মাকে ধারণ করে আছি।
দেখ, কিভাবে সাইলেন্সের ঘ্রাণ লেগে যাচ্ছে

বাতাসে বাতাসে ....









এবং একুশ

রূপক সান্যাল


এত মোহ
রূপক সান্যাল



এত মোহ ছড়িয়ে রেখেছ এই পথে,
দু'চারটে তুলে নেব?
আমি যা চাইপুরো একশ'ভাগই চাই -
একটা চুমুও যেন মাটিতে না পড়ে ...
বুক ভ'রে শ্বাস নিইআঃ,কী সুঘ্রাণ
এই মোহগুলির

এত মোহ ছড়িয়ে রেখেছ -
এর দু'চারটে কি আমার জন্য নয়?













এবং একুশ

অপরাহ্ণ সুসমিতো

অপরাহ্ণ সুসমিতো




দু:খ দেখতে একদম ছোট্ট বালক বা বালিকার মতো
বাবার হাত ধরে বড় রাস্তাটি পাড় হয় কিংবা বাতি নিভে গেলে মার গা ঘেষে
বসে বসে ভাবে কবে বড় হবে আলাদিনের গল্পের মতো ।

কোনো কোনো দিন কতো আগে দেখা অ্যালবামের ধূসর ছবির মতো
রাত জাগা দূর পাল্লার রাস্তার মতো এঁকেবেঁকে নিরীহ সরীসৃপ
বুক ঘষে চেনা বালুচর পথ, রান্না দুধের সরের মতো হাত পা ছড়িয়ে থির হয়ে থাকে ।

ব্রীজটার রেলিংয়ে দু:খ বালিকাটা দাঁতে নখ কাটে, উড়ু চুলে ক্লিপ আঁটে
স্কুলের ব্যাগে ভরে নেয় হোমওয়ার্ক, ডিমের পুডিং, বৃষ্টিতে জুতো ভিজে গেছে বলে
থপথপ করে হাঁটে, সমাজ বিজ্ঞান ম্যাডামের মতো রাগ রাগ আদর মুখ ।

দূর পাল্লার ট্রেন থেকে দু:খ নামে ভীড় স্টেশনে
প্রায় গায়ে লেগে থাকা যাত্রীর মতো লাগেজ হাতে নিয়ে কুলি কুলি বলে ডাকে
তাকে ক্লান্ত যাত্রী লাগে, বোতল থেকে চুমুক করে পানি খায়,
ট্যাক্সি চড়েই বলে : চলুন শান্তি শহর ।

নৌকার পাটাতনে বসে থাকে ঝুমঝুম দু:খ বালক, নদীর সারেঙ রোদে ফারুক
পিটপিট চোখের পাতা কবরী
গাঙে ভাসে গ্রামের অভাব, গুড়ো দুধের ক্যালেন্ডারের পাতা
সুহাসিনী লাক্স সাবান । ভাইয়ের কষ্টে বোনের জল পিয়ানো ..

আবার আসবো বলে দু:খ চলে যায়, সিলেটের পাহাড়ে বাবার বিলিকাটা চুলে
জীবনের রঙ নিরাকার বলে খাবার পানি হয়ে কাজলে কাজলে গেলাসে

নারকেল পাতার ছায়ায় সবুজ হয়ে থাকুক জীবনের সমান
ও দু:খ
সিনড্রেলার মতো সুন্দর দু:খ এতো ভালো বাবু যে
কান্না করতেই জানে না । একদম না ।












এবং একুশ

পিয়ালী বসু


তেরো পার্বণ
পিয়ালী বসু



What lips my lips have kissed, and where, and why,
I have forgotten, and what arms have laid
ছায়া লাগা বিষণ্ণ বিকেলে
কতদিন বসা হয়নি দক্ষিণ বারান্দায়
সত্যিই কি খেলা শেষ আজকের মতো?
সেই ঘরটার জানলা, তার পর্দায়, টেবিলে, চেয়ারে আর সেই খাটে
ফেলে আসা ভালবাসার ছায়া
অলস দুপুর আর নিঃসঙ্গ রাত সয়ে যাওয়া
আর ফেলে আসা কিছু শরীরী অবয়ব
I cannot say what loves have come and gone,
I only know that summer sang in me
A little while, that in me sings no more.
ক্লান্ত, ভরন্ত শরীরের ব্যারিটোন জুড়ে আজ শুধুই
It must have been love, but I lost it somehow









এবং একুশ

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

উৎসব
বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়




নীচু হয়ে আসছে
শীত
আর
আমরা কুড়িয়ে নিচ্ছি
পলাশ দুপুর
ঝুড়ি ভরতি রঙ
উৎসব
নেচে উঠে দুপা শাড়ি গাছপালা
শিমুল ও মাতাল আজ মহুলের বাসে।







এবং একুশ

সুপ্রভাত লাহিড়ী

আমার যখন কান্না পায়.....
সুপ্রভাত লাহিড়ী



আমার যখন কান্না পায়
লেখার টেবিল হাতছানি দেয়,
কলমখানা মুখিয়ে ওঠে
সাদা কাগজ বুক পেতে দেয়,
সব কান্না ঠিক শুষে নেয়।

আমার যখন কান্না পায়
মনটা তখন একমুখী হয়,
কলম করে দামালপনা,
সহৃ করে কাগজখানা
লেখার টেবিল নিঝুম রয়।

আমার যখন কান্না পায়
কান্না পায়, আর কান্না পায়,
রাত ও তখন গভীর হয়,
ভগ্ন বুক মুখ গুঁজে দেয়,
লেখার টেবিলটায়,
স্পর্শকাতর কাঁদুনিদের শেষ আশ্রয়।










এবং একুশ

বেলায়েত মাছুম

গ্রস্ত-দশা
   
বেলায়েত মাছুম



আমাদের হাতে সময় ছিল
ঠোঁটের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার
জোনাকিদের আড়াল করে গ্রীবার কাছে।
লাঠি খেলা ময়দানে আমরা ছিলাম না-
ধুলোর ভেতর হতে তার নাক উঁকি দিয়ে বলল
ও হে কুমার- জল ঢাল না কেন,
তুমি কারিগর হও চন্দ্র গৃহের
আর আমায় নিষ্পত্তি দাও
আমি ভিজতে চাই আরো পরিপাটি হয়ে।
আমার কথা বলা চোখ জেগে থাকে     
সূর্যের দিকে নত হয়ে
নদীতে ঢেউ জাগে, সমুদ্রে
আমরা ভেসে বেড়াই
সন্ধ্যা যেমন নেমে আসে বিকেলের কোলে
বসি থাকি আঁধার হয়ে চন্দ্র গৃহে।






এবং একুশ