শুক্রবার, ১ মে, ২০১৫

রত্নদীপা দে ঘোষ


হাত
রত্নদীপা দে ঘোষ



ঘুম খোলার পরে
ঠিক এইরকমই চোখ হয়ে থাকি
আমার চোখ পান করো তুমি
তোমার চোখ অনবরত
দৃষ্টি লুকিয়ে রাখি

পৃথিবীর শ্বাস শুঁকে মুক্তি নিই
অন্ধকার ভাগ হতে হতে বেড়েছে
রসাধার , ভাসমান কণা
আদরের নাম যদি মৃত্যু হয়
সেই মৃত্যু চেয়েছি প্রবাহ সমেত
একশত একাধিক বার

তর্জনী তুলো না মেঘ
ঝড় বৃষ্টি হাওয়াঅফিস, করুণ
গৃহের সমুদ্র বরং ভ্রূকুটি কর
যেভাবে চোখ ফোটে ভীরু বাতাসের
পাহাড় ওড়ে দু মুঠো প্রজাপতির গন্ধে
যেভাবে অর্সগাজমের সময়ে
আমরা একে ওপরের পিঠে
হাত রাখি













এবং একুশ

মৈনাক সেনগুপ্ত


সুজেটের জন্য
মৈনাক সেনগুপ্ত


শহরে নিয়ন-রাতে
মেয়েটি একলা হাঁটে
অজানা অগ্নিপথে ।
নিয়নে ঘোর তমসা;
শহরে রোজ কুয়াশা ।
কেন মেয়ে চলার নেশা?
তুফানে আকাশঢাকা ।
জানি তোর পলকা পাখা।
হাতে স্রেফ প্রদীপশিখা
দুপাশে দত্যিদানো ;
পায়ে পায়ে চোখরাঙানো।
মেয়ে তুই থামলি কেন?
হঠাৎ ই থামলে হবে?
মেয়ে তুই বুঝবি কবে?
আমি তোর পথ চেয়ে যে ।
হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত নাকি ?
এখুনি দিস না ফাঁকি ।
মুখ তোল চোখটা দেখি ।
মৃত চোখে ঐ তো আগুন ।
তোর লাশে জ্যান্ত ফাগুন ।

তুই সব আগামী ভ্রূণ ।







এবং একুশ

কাশীনাথ গুঁই



এলোমেলো
কাশীনাথ গুঁই



অনেক দিন ধরে,
বহুপথ ঘুরে ঘুরে
গেছি সাতসমুদ্র পারে।


বালিয়াড়ি মাড়িয়ে
অবিরাম স্রোতে
সাগরে সুর বাজে।


ঢেউ আসে
ফিরে যায়
অব্যক্ত বেদনাহত।


রাত বাড়ে
কোলাহল কমে
সাগরে কান্না বাড়ে।


বালুকাবেলা পড়ে
থাকে একা
রাত ক্লান্ত হয়।


সকাল পুবে
লালচে রঙে
দিনমণি ওঠে।


অনেক সামুদ্রিক জীব
অক্টোপাস জেলিফিশ
ঝিনুকেরা পড়ে থাকে তটে।


কাঁকড়া পালায়
দূরে ঝিনুকেরা ঝলমলে

মুক্তো মেলেনা।








এবং একুশ

অরিন্দম চন্দ্র

শপথ
অরিন্দম চন্দ্র



চল আর এক বার যাই,
আরও এক বার ডানা মেলি
যদিও আকাশে কালপেঁচাদের অবিরাম ঘোরাফেরা আজ
বাতাসে রক্তের নোনতা স্বাদ।

তিতকূটে এই জগতে যত কথা
যত গান যত সুর যত ব্যথা
বিহ্বল সুখের ভাষার জোগান দিয়ে ভাসাত আমাকে-তোমাকে
আজকে অসাড় তারা।

তবুও প্রিয়তমা,
তোমার স্তনসন্ধির উষ্ণতা মেখে
আরো একবার হারিয়ে যেতে মন চায়
মুষ্টিবদ্ধ শপথে শত্রুর বুলেটকে বুকে নিতে।।











এবং একুশ

ইন্দ্রাণী সরকার


স্পর্শ
ইন্দ্রাণী সরকার



স্পর্শ লেগে আছে সর্বাঙ্গে
বিগত জন্ম থেকে জন্মান্তর
ঠোঁটের ছোঁয়ায় নাম লেখো
চিরদিনের কুসুমবালিকা
শব্দ গুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
অতন্দ্র স্মৃতির মনিকোঠায়
কাছে না থেকেও থেকে যাও

শুধু আমারই  চিরসখা











এবং একুশ

তন্ময় গুপ্ত


নিশা-মা
তন্ময় গুপ্ত



আজ সকালে ভোরের আকাশ আমায় কেন ডাকল না ?
নতুন ফুলের মধুর সুবাস আমার সাথে থাকল না !
উদার নিশা তোমার আঁচল ছড়িয়ে দিলে চোখের আগে,
সতর্কতার দৃষ্টি তোমারশ্রান্ত আমার রোদ না লাগে!
আমি তখন ছোট্ট শিশু কপোল ভরে তোমার চুমা
স্নেহের পরশ সকল মনন বললে আরও একটু ঘুমা।
বললে রুক্ষ কঠিন পথে চলতে হবে জীবন ভরে
যুদ্ধ শেষে জয়ীর বেশে আসবি ফিরে মাতৃক্রোড়ে।
নিঠুর আঘাত ঘাত প্রতিঘাত শরীর মনের হাজার ক্ষত,
মাতৃহৃদয় জুড়িয়ে দেবে শ্লেষ অপমান ব্যঙ্গ যত।
ধৈর্য –যুদ্ধ জয়ের মন্ত্র দেখিয়ে দিলে সেই দিশা।
মাসকল ক্লান্তি সংহারিণী তুমি আমার সেই নিশা-মা।










এবং একুশ

অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়

কৃষ্ণকলি র প্রেম
অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়



চোখের পাতায় এ কার প্রতিচ্ছবি!
বুকের ভেতর এ কার ছোঁয়া লাগে?
এ কোন নেশায় জড়িয়ে পড়েছি আমি,
এমন তর হয়নি কেন আগে!!
মাথার কাছে তুমি কি এলে প্রিয়?
বুলিয়ে দিলে তোমার চেনা হাত,
এ সুখ পেলে প্রহর জাগতে পারি,
জীবনভর এমনি সারারাত।
সেই যে তোমার শরীর শরীর ক্ষুধা,
সেই যে তোমার এক পৃথিবী কাম,
কোথায় গেল, বলোনা প্রিয়তম,
কোথায় সে সব, বলোনা ঘনশ্যাম!?!
এত দিনের পরে কি পড়ল মনে
মুখপুড়ি এই কালোমেয়েটার কথা,
কি হল সিরাজ, কি হল প্রিয় সাঁই
প্রেমের সময় কেন এই নিরবতা?
মনের মানুষ তোমায় করেছি কবে(ই)
তুমি তো তখন চেয়েছ শুধু কাম,
আমি পূজারিণী তুমিই আমার সব-
কখনো আল্লাহ্‌, কখনো ঘনশ্যাম।






এবং একুশ