বুধবার, ১ জুন, ২০১৬

অনুপ দেবনাথ



বকুলকথা
অনুপ দেবনাথ



ঐ ছায়ে বসেছিলে তুমি,
এই ঘাসে রেখেছিলে হাত ।
এ খানেই তো প্রথম দেখা,
হাতে রাখা হাত ।


এ পথেই হেঁটে যেতে তুমি,
গাছ থেকে কেড়ে নিতে ফুল ।
সেই ফুল আজো ঝরে জানো,
সুরভিত শুভ্র বকুল ।

বকুল বিছানো সে পথে,
যখনই হেঁটে হেঁটে যাই ।
শুনি বকুলের প্রশ্ন আকুল ,
নাই ; সাথে নাই ?

সময়ের সাথে তুমি আমি,
দূর থেকে আরো ,দূরে সরে যাই ।
জাগে শুধু বকুলের প্রশ্ন আকুল,
নাই ; সাথে নাই ?













এবং একুশ

অ্যাঞ্জেলিকা ভট্টাচার্য



আপোষ
অ্যাঞ্জেলিকা ভট্টাচার্য



আমার নিরক্ষর ,সেকেলে মা ।

বিটি রোড পার হতে পারেনা

গরিয়াহাটে হারিয়েছে কতবার ,

ভুল ট্রেনে উঠে

মুখ থুবড়ে পড়েছে বনগাঁয় ।

হাত পুরিয়ে আমাদের ভালো মন্দ খাইয়েছে

সময়ের আগে বুড়িয়ে গেছে

কিন্তু কখনো আমাদের জন্য ফুরিয়ে যায়নি ।

আমার মা অভিযোগ করতে শেখেনি কখনো-

হয়তো মনে মনে অভিমান করেছে

কিন্তু তার হদিশ পাইনি কখনো ।

হদিশ কি করে পাবো?

চোখের জল রান্নাঘরের তাপে

এক অদ্ভুত মেঘের জন্ম দিয়েছিল



তার নাম আপোষ .............


























এবং একুশ

পলাশ কুমার পাল




নিঃশ্বাস বহিছে
পলাশ কুমার পাল



বরফের পর বরফ কেটে
জীবন হাঁটছে
উঠছে...
থোক থোক বরফ বুকে।

আইসক্রিম গলে গেলে
জিভ চাটছে
তৃপ্তি,
ভাঁড় ভেঙে সে যে আইসক্রিম কিনেছে!

কাঠির গায়ে বরফ
কাপেতে বরফ
জীবন চুষতে চুষতে মৃত্যুও-

দৃশ্যের সন্ধানে কবিমন
হোঁচট খেতে খেতে তবু...
নীরবে উচ্চতা ভাঙছে
নীরবে...

বরফের পর বরফ কেটে
জীবন হাঁটছে
উঠছে...
নামলেই মৃত্যু
উঠলে জিজ্ঞাসা;
থোক থোক বরফ বুকেতে
নিঃশ্বাস আজও বহিছে...














এবং একুশ

পিনাকী মণ্ডল



শৃঙ্গজয়
পিনাকী মণ্ডল





পাহাড় আর দিগন্তের নীলে

ছুটেছিলে শূন্যের অমোঘ আকর্ষণে,

নীল বরফ আর মৃত্যুর বিভীষিকা

তুচ্ছ ছিল সেথা।

মনে কি পরেনি বিধবা মা,

পড়ে থাকা একলা গৃহকোণ,

তার সজল- করুণ আঁখি...

বড় হ’ল শুধু শৃঙ্গ জয়ের হাথছানি ?

সারি-সারি লোক, কত নেতা-মন্ত্রী

ভিড় ক’রে আজ তোমার আঙিনা মাঝে,

কেউ বা দেয় ফুল, কেউ মালা

শান্তনার বর্ষা যেন নামে,

কি হ’বে এই বরমাল্য, পুষ্পাঞ্জলি নিয়ে

বন্দী তুমি আজ কফিনের মাঝে।

পারবে কি তুমি অশক্ত শরীরে

বৃদ্ধা মায়ের পাশে উঠে দাঁড়াতে ?

চতুর্দোলায় চড়ে কফিন বন্দী হয়ে

শুরু হয় তোমার শেষ যাত্রা,

প’রে থাকে তোমার বিধবা মা,

আর এক চিলেতে ঘরের অনন্ত অন্ধকার।














এবং একুশ

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম




পরিবার
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম





দমবন্ধ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে দুদ্দাড় দৌড়োচ্ছি

মাঠের পর মাঠ বনের পর বন

দ্রুতলয়ে বের হয়ে পড়তে হবে আমাকে

এই বদ্ধ জঙ্গল থেকে

যেখানে অবিশ্বাস আর হিংসার সাম্রাজ্য

ধীরে ধীরে কুঁড়ে খেয়েছে বিশাল গণতন্ত্রকে

এবং সামনে মুখ থুবড়ে

পড়ে আছে ভালবাসার শ্বাসমূল

এখন সমস্তটা মনে হয়

যুগ যুগ ধরে নিপুণ হাতে গড়া দু'পয়সার মেকি হাওয়াই মিঠাই

ঘর ছেড়ে আমি পালাচ্ছি, আটকা পড়ে যাচ্ছি এবং পরে ব্যর্থতার অঢেল পাহাড় নিয়ে উড়ে যাচ্ছি...











এবং একুশ

সুরজিৎ চক্রবর্ত্তী



ঈশ্বর জন্ম
সুরজিৎ চক্রবর্ত্তী



কাল রাতে একটা জোনাকি উড়ছিল
একবিন্দু আলো নিয়ে
অন্ধকারে
আমি নেমে এলাম
ব্যালকনি থেকে সোজা
এক সিঁড়ি দু সিঁড়ি এড়িয়ে

একজন প্রবীণ বললেন এভাবে হয় না
শরীর থেকে ছাল খসাতে হয়
ইশ্বর কনার মত
মুহুর্তের জন্ম মৃত্যু

বাতাসে এলোমেলো উড়ছে পরোয়ানা
গাছ ব্যাকটিরিয়া আর ইঁদুর জন্মের
লাল অথবা সবুজ আলো
জ্বলে উঠেই নিভে যাচ্ছে
পলকের ব্যাবধানে
জন্ম আর নাজন্মের সিদ্ধান্ত
লক্ষ কোটি বছর দূরে
রোজ বহুবার
একইভাবে

বিচারক বললেন এত তাড়া কেন
তোমার কেসটার পর্যালচনা এখনও বাকি
তারপর ম্যান্ডোলিন বাজিয়ে
ফিরে গেলেন
কালো দিগন্তে

সকালে মুখ ধুতে গিয়ে দেখলাম
আমার জিভটা এখনও
সাদা হয়ে আছে মরা মানুষের মত ।।











এবং একুশ

মনোজিৎকুমার দাস



উইলিয়াম ব্লেকের কবিতা
অনুবাদ - মনোজিৎকুমার দাস
বিবর্ণ গোলাপ




ওহ গোলাপ, বিবর্ণ তোমার রূপ

অদৃশ্য কীট

রাতের পতঙ্গ

ঝড়ের গর্জন;

র্খুঁজে পেয়েছি

লাল রঙে রাঙানো

তোমার শয্যা;

নিরুদ্ধ গোপন ভালবাসায়



তোমার জীবন তমসাচ্ছন্ন ।






এবং একুশ

দীপ রায়



সায়ানাইড লাভ্
দীপ রায় 



লাভ্ ইজ ব্লাইন্ড বলে
যত প্রেমিক যুগল একে একে
ঝাঁপিয়ে পড়েছে দামাল জমিতে
প্যারাশুট খুলে
একটা ধুলোমাখা মেঘ
তাদের সর্বাঙ্গে গ্রাস করেছে
ও সমাজ নামক একটা
ধারালো ছুরি প্রায়শই তাদের
ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে
এই বিশ্বাস বুকে নিয়ে
রোজ সারা পৃথিবীজুড়ে
কত ইফ্তিকার ও সোফিয়ারা
চিরঘুমে আবদ্ধ হয় নীলরঙা ঠোঁটে
আর কখনোসখনো আমরা পাতা
উল্টে ওদের কথা পড়ি
আর পাশ ফিরে শুয়ে
নিজেদের কবর হাতড়াই

















এবং একুশ

সীমান্ত হেলাল




শান্তিপ্রিয় মোমপুতুল

সীমান্ত হেলাল



প্রখর রোদ্রস্নানে উন্মাতাল হয়ে আমি ছুটে গেছি

সাদা ছায়াধারী বৃক্ষের নিচে।

যতটুকু আর্দ্রতা আছে দিয়ে দিয়েছি তাকে।

বিনিময়ে একটু শান্তি চেয়েছি



সিগ্রেটের ধোঁয়ায় স্বপ্ন উড়িয়ে হাঁটতে চেয়েছি নিরুদ্দেশ

হাঁটতে হাঁটতে ফের-ফিরে এসেছি সেই পথে

যেখানে হাড়িয়েছি আনকোরা শৈশব...



আজন্ম বেহিসেবি জীবন বয়ে চলে চঞ্চল ঘরির মতো

ঘাম আর লবনে শানানো দেহ মাঝে মাঝে একটু ক্লান্তি চায়

তবু অক্লান্ত কলমের মতো চলমান আমি



প্রয়োজন মতো ব্যবহার হচ্ছি

অপ্রোয়জনে ফুড়িয়ে যাচ্ছি

বোবা কান্না-জমা হতে হতে

আমি এখন মোমপুতুল।



প্রচন্ড উত্তাপে গলে যাই

কারো বিরহের আগুনে জ্বলে যাই

জলের মতো সহজ হয়ে ব’য়ে যাই...





জন্ম থেকে জ্বলছি তাই




























এবং একুশ

অরূপ গোস্বামী


হামার রবি ঠাকুর
অরূপ গোস্বামী




হামার রবি ঠাকুর ?

দেখবি যা তুই লিড়ন দিছে
শিমুলটাঁড়ের বাইদে
বাস্যাম লিয়ে দৈড়াছি তাই
ছিল্যা ঘরে কান্দে ।
বিহন বেলায় ঘরকে ঘুরে
সিনান খাওয়া সাইরে
বাঁধব্যে বস্যে ঝুমুর টুসু
গাইবে গলা ফাইড়্যে ।

হামার রবি ঠাকুর ?

কৈলা খাদে গাইত্যের ঘায়ে
ভাঙছ্যে কালা পাথর
জীবন মরণ রাখছ্যে বাজি
আশ্বিন থাক্যে ভাদর ।
ঝান্ডা উঢ়ায় লড়াই করে
গায় জিহাদী গান
রক্ত চুষা করত্যে নিকাষ
টাঙির ফলায় শান ।

হামার রবি ঠাকুর ?

ঝুপড়ি ঘরে লমফ আলয়
লিখছ্যে বস্যে পইদ্দ
নাইবা থাকুক মানে মাথা
নাইবা বলুক ভদ্দ ।
ভট কাগজের উল্টা দিকে
সময় দিছে ফাঁকি
খঁকরা পেটে ছুটছ্যে চুঁহা
সকাল কত বাকি ?










এবং একুশ

জাফর পাঠান



ইচ্ছা-অনিচ্ছা

জাফর পাঠান



যায় দিন যায়- ইচ্ছাগুলি একটানে ছিঁড়ে

ডুবিয়ে দুখের অতলে কোথায় যেন ভিড়ে,

চেয়েছি যা হয়ত আছে তা ইচ্ছার ঐ নীড়ে

হয়ত ইচ্ছার কেন্দ্রবিন্দু- ঐ নীড়কে ঘিরে।



ছুঁয়ে দেখে-না দেখে চেয়েছি যা এই জীবনে

কিছু আছে ইচ্ছাধীন- কিছু অন্যের ভুবনে,

আবার কিছু না চাইলেও- আসে ইচ্ছা বিনে

ইচ্ছার ইচ্ছায় কিছু আছে- নিতে হয় কিনে।



কি চেয়েছি-কি পেয়েছি ইচ্ছা আর অনিচ্ছায়

মিলিয়ে দেখি- বেশীটুকু অনিচ্ছার ইচ্ছায়,

ঘুড়ি উড়াই আমি- নাটাই আমার কব্জায়

না দিলেও সায় কে যেন সূতা নিয়ে যায়!



ভাবি শুধু ভাবি- রহস্যের দোটানা ইচ্ছায়

বাধ্য হই কিছু করতে- ইচ্ছাহীন স্বেচ্ছায়।











এবং একুশ

মঙ্গলবার, ৩ মে, ২০১৬

সম্পাদকীয়



প্রকাশিত হলো 'এবং একুশ' মে, '১৬ সংখ্যা

এই সংখ্যার নির্বাচিত কবিরা হলেন -
কেয়া বসু
সলিল বোস
রেজা রহমান
ব্রতী মুখোপাধ্যায়
শর্মিষ্ঠা নাহা
সঞ্জীব রায় ব্যানার্জী
শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়
অলভ্য ঘোষ
পবিত্র চক্রবর্তী
অনাদি চক্রবর্তী
সুপ্রতীম সিংহ রায়
কাজী এনামুল হক
সুপ্রভাত লাহিড়ী
বনশ্রী মিত্র
কৌশিক বিশ্বাস
শঙ্কর দেবনাথ
বন্দনা মিত্র
জাফর পাঠান
সুমিত নাগ
পলাশ কুমার পাল






























এবং একুশ

কেয়া বসু



না

কেয়া বসু



আজ দুপুর থেকে আকাশ জুড়ে

         ধূসর মেঘের আনাগোনা

আমার উত্তরের জানলাটা

দিয়ে আমগাছ গুলোর

          ফাঁকে ফাঁকে

আকাশ দেখা মনটা

মেঘগুলো ভেসে ভেসে

             কোনদিকে যায়?

                সামনে? না পেছনে?


মন আমার মেঘে মেঘে

                সেই সে দিনে

সেই যেদিন স্কুলে যাবার আগে

মা বলল, আজ আর তোমায়

         যেতে হবে না স্কুলে

আজ থেকে তুমি

বড় হয়ে গেলে... সেদিনও

          আকাশে কত্তো মেঘ

আমার মন খারাপের মতো


দুপুর বেলা বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি

দেখতে দেখতে গলিতে

          এক হাঁটু জল

সদর দরজায় বসে বসে

ভাসলো কত নৌকোর দল

এটা তোর জন্য, শ্রাবন্তিকা

      অনন্যা, এটা তোর...

তোকেও দেবো, কমলিকা

এটা শ্রুতিকে দিস,

                    এটা ওর...



আচ্ছা, ওরাও কি বড় হয়ে গেছে?

গলির মোড়ে বুবাইরা

               জল ঘাঁটছে

ডাকল আমায়, আআয়য়য়...

আমার কান্না পাচ্ছে,

কেন সবাই এমন করে

            বড় হয়ে যায়?


এমনি করেই কমলিকারা

কমললতা হয়... এমনি করেই

অনন্যারা অন্য উপায় নেয়

   বুবাইরা সব বড় হলেও

           কিছুতেই নেই মানা

শ্রাবান্তিকা বড় হলেই

              সব কিছুতেই ‘না’

















































এবং একুশ

সলিল বোস



গোপন কথা
সলিল বোস



পুরুষের স্বভাব বদল হয়না
বয়স যতই হোক,
নারীর বিশেষ অঙ্গের প্রতি
প্রথমেই পড়ে চোখ।
নারীও সেবিষয়ে সচেতন তাই
রূপচর্চায় গুরুত্ব দেয়,
পুরুষের মুগ্ধ দৃষ্টির আকাঙ্ক্ষায়
উদগ্রীব হয়ে রয়।
বিধাতার একি অপূর্ব অবদান
সৃষ্টির মাহাত্ম্য অনন্য,
উভয়ের প্রতি অমোঘ আকর্ষণ
জীবনকে করেছে ধন্য।




























এবং একুশ

রেজা রহমান



প্রেম
রেজা রহমান



একদিন সেই কবে স্বপ্নঘুম ঘুমিয়েছিলেম
তারপর থেকে জাগি ঘুমজাগরণ থেকে জাগরণঘুম থেকে প্রেম
আজ আমি বলি তুমি শোনো
তুমিই বলেছ আগে শুনে গেছি অমনোযোগী কি আমি হয়েছি কখনো?


ঘুমভাঙা চোখ মেলে জেগেছি প্রভাতে
যখন যেখানে খুশি এ আমাকে নাওনিকি সাথে
হাতে ধরে তুমি কালে কালে
অষ্টপ্রহর কাছে কাছে রেখে কতই না কিছু যে শেখালে
শেখালে একাই তুমি সব
তুমি ধর্ম কর্ম যুদ্ধ সন্ধি শান্তি উপাসনা স্তব
আমার ঈশ্বর তুমি দহনদীপিকা শুদ্ধতম অগ্নি আনন্দলোক
চাইতে না চাইতেই তথাস্তু বলেছিলে বলেছিলে তবে তাই হোক ।

একেকটা কথা তুমি বলে গেছ সেই ছিল পাঠ
কী ঝড় তুলেছে এই বুকের ভেতরে আর পরাপাখিটার পাখসাট
আমাকে করেছে কী যে ক্ষতবিক্ষত অহর্নিশ
ফটিক জলের মত পান করে যাইনি কি নিত্য আমি অমরতা বিষ?

চমকে উঠেছি আমি কারো চোখ দেখে
সে চোখের কথা কেউ কী করে যে লেখে
চমকে উঠেছি কারো শুধু কথা শুনে
চমক উঠেছি অপরূপে রূপেগুণে
চমকে উঠেছি কারো শুধু কন্ঠস্বরে
চমকে উঠেছি দেখে গানের ভেতরে
কাউকে বা দেখে ভাবি ফিরে দেখা বুঝি
সে কি তুমি যাকে আজও নিরন্তর খুঁজি?
তুমি দুঃখ দেখেছ কি আমার মতন ভালোবেসে
দেখেছ কি মন্দাকিনী ফিরেছে উজানে রুধিরাশ্রুজলে ভেসে?

জেগেই ঘুমোই যদি ঘুমিয়েও জাগি
ঘুম ভেঙে দেয় আজও মাঝরাতে স্বপ্ন বিবাগী
স্বপ্ন ভেঙে দেয় ঘুম যখন তখন
স্বপ্ন নিজে কি ভেঙে যায়নাকো কাঁচের মতন
কত আর সয়ে যাই স্বপ্নের মার
ঘুমভাঙা স্বপ্নও কী করে যে পেয়ে যায় পার
স্বপ্নের ভেতরেও স্বপ্নই দেখি
স্বৈরিণী স্বপ্ন থেকে মুক্তি মেলে কি
স্বপ্ন আমাকে আজও জিম্মি করে রাখে
স্বপ্ন দেখি যদি আমি স্বপ্ন কি দেখে এ আমাকে?

কে যে ডাকে কত শুনি জাগো জেগে ওঠো
এ সবই তো কবে থেকে জেগে ওঠা বড়ো কিংবা ছোটো
অনেক দেখেছি আমি জেগেওঠাউঠি
জেগেওঠাউঠি নিয়ে আদিগন্ত কম কি করেছি ছুটোছুটি?

একদিকে কার্ল মার্ক্স এঙ্গেলস লেনিন
অন্যদিকে রুমি রোঁলা কবিগুরু আরো কেউ কেউ রাতদিন
স্মৃতিসত্ত্বা ভেঙেচুরে বুকের পাঁজর ছেপে উপচে যে পড়ে
দুহাত উপুড় করে তোমাদের এত সব দেয়া আর কোথাও না ধরে ।

আমাকে আমার মত ঘুমোতে দে প্রেম
নইলে পাবিনে পার আজ এই শপথ নিলেম
সমস্ত কুকীর্তি তোর করে দেবে ফাঁস
তারপর দেখা যাবে কে যে রোখে তোর সর্বনাশ
আজ শুধু ঘুম চাই—ঘুম
আরশিনগরও কি স্বপ্নই আকাশকুসুম?





































এবং একুশ

ব্রতী মুখোপাধ্যায়






একেবারেই করপোরেট দুনিয়ার স্টাইল
ব্রতী মুখোপাধ্যায়





একেবারেই করপোরেট দুনিয়ার স্টাইল
রাজধানীতে হেড কোয়াটারস
প্রেসিডেনট, ভাইস, বোরড অব ডিরেকটরস
সেখানেই থাকেন
প্রতিমাসের শিডিউল যেমন, সেভাবেই, সেখানেই
নিয়মিত বোরড মিটিং
এখন আবার কোনো কোনো স্টেটের ডিমান্ড মেনে নিয়ে
সিটুয়েশন অনুযায়ী
ব্রানচেও এক-আধবার মিটিং করতে হয়


একেবারেই করপোরেট দুনিয়ার স্টাইল
স্টেটে স্টেটে কোমপানির সিইওরা থাকে
তাদের নিচে
জেলায় জেলায় চিফ ম্যানেজার
তাদের নিচে
ম্যানেজার
গোটা সেট-আপটাই ডিমোক্রেটিক রাখা হয়েছে
শধু ফাইন্যাল ডিসিশানগুলো, ডেলিগেশান অব পাওয়ার
সেনটার থেকে কনভে করার ব্যবস্থা
পুরোপুরি ছিমছাম

একেবারেই করপোরেট দুনিয়ার স্টাইল
মিটিংগুলো ইমপরটানট
সেখানেই প্রি-শিডিউলড আলোচনা
রিপোরটিং রেভিনিউ
পুরানো এরিয়া ধরে রাখা
নতুন এরিয়া এক্সপ্লোর করার স্কিম
ময়দানে অন্য যেসব প্লেয়ার আছে তাদের সঙ্গে রিলেশানস
যা আবার সবসময় চেনজিং
তাছাড়া লিগাল সেল গ্রিভানস সেল ইনটারন্যাশন্যাল ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি

এমনিতে ব্রানচগুলো স্বাধীন
বড় কিছু না ঘটলে পলিসি অব নো ইনটারভেনশান মেনে চলা হয়
সিইওরাই ম্যানেজারদের সঙ্গে ডিশকাস করে স্থির করবে
কোমপানির স্পোকসপারসন কে হবে
কার ওপর কোন সময় দায়িত্ব থাকবে প্রেস-মিটের
কোন কোন ইস্যু সামনে আনা হবে
অন্য প্লেয়ারদের কার সাথে কখন কিভাবে
আন্ডারগ্রাউনড আনডারস্ট্যান্ডিং গড়ে তুলতে হবে
কোন সময় কাকে কোন কৌশলে অ্যাটাক করতে হবে
অবলাইন এবং অনলাইন মিডিয়ার কোন অংশের সাথে
কতখানি হবনবিং নেসেসারি
কোথায় কবে কোন ইস্যুতে
মিটিং মিছিল ধরনা জনসমাবেশ (আর হ্যাঁ, আর্মস ইউজ) করতে হবে
সব কিছুই নিচের লেভেল ইনডিপেনডেনটলি সামলে নেবে

তবে কিনা
একেবারেই সায়েনটিফিক, মানে বিজ্ঞানসম্মত, মানে
একেবারেই করপোরেট দুনিয়ার স্টাইল





































এবং একুশ

শর্মিষ্ঠা নাহা



একলা আজ পয়লা মে
শর্মিষ্ঠা নাহা




গগনভেদী আর্তনাদ,
বজ্রমন্দ্রে
বলল 'হে'-


"পুঁজিবাদ
নিপাত যাক;
শ্রমিক দামী
শ্রমের চেয়ে।

নিজের ন্যায্য
অধিকার,
মজদুর, তুই
ছিনিয়ে নে।"

রক্তনদী
বইয়ে এক
বলল, কিন্তু
শুনল কে?

বাজার জুড়ে
হাতছানি-
হাজার লোভ:
'চাই গো, চাই'

রক্ত, ঘাম,
নাইকো দাম:
রাত্রদিন
খাটছি তাই।

বিশ্বময়
আজ যে বয়
দীর্ঘশ্বাস-
লক্ষ বুক

কিনল যে
ঈর্ষা, দ্বেষ ;
মিলল না
শান্তি-সুখ।

তবুও হায়,
সবাই চায়
শিকল-
স্বাধীনতার চে'

ভোগের নেশা,
সবাই বুঁদ-
একলা আজ
পয়লা মে।











































এবং একুশ

সঞ্জীব রায় ব্যানার্জী



কুরুক্ষেত্র
সঞ্জীব রায় ব্যানার্জী



গান্ডীবের ছিলাটা পটাং করে ছিঁড়ে গেলে
আমি সটান অর্জুন থেকে কর্ণ হয়ে যাবো;
আর রথের চাকায় টান মেরে
ধরনীকেও সরিয়ে আনবো দু-কদম।
সবাই তো সব্যসাচী অর্জুন হতে চায়,
আমি কর্ণ।
কবচকুন্ডল তোমার হাতে তুলে দিয়েছি,
অভিশপ্ত জীবনের বোঝা টেনে টেনে
পরাজিত মহাবীর হয়ে আছি আজ।
জন্ম থেকে হার দেখতে দেখতে
আজ ক্লান্ত কর্ণ কৌরব সেনাপতি।
সেনাপতি?
জীবনের শেষদিনে সেনাপতি!
নিয়তির হাতে বন্দী।
অদৃষ্টের বাঁধা গতে
আমি ক্লান্তির দ্বীপশিখা;
ভুলপথের ভালোবাসায় রিক্ত, নি:স্ব।
সহায়সম্বলহীন এক ব্যর্থ প্রেমিক।
হায় কর্ণ!
আমার একমাত্র আদর্শ চরিত্র।
দেবতার অনুগ্রহে পালিত নই আমি।





































এবং একুশ

শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়



একটি পারিবারিক গান
শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়



পরিবার মানে তোমার আমার স্বপ্নের গাঁটছড়া
পরিবার মানে আকাশের নীচে একসাথে বাস করা
পরিবার মানে দেওয়ালে উঠোনে তীব্র গেরস্থালী
পরিবার মানে মাস পুরোবার আগেই ভাঁড়ার খালি
পরিবার মানে থালাতে বাটিতে ঠুং-ঠাং কলরব
পরিবার মানে শুধু দুজনের নিজস্ব বৈভব
পরিবার মানে হাতে হাত রেখে আস্থার বীজ বোনা
পরিবার মানে ভাত তরকারি, এবং কখনও লোনা
পরিবার মানে আগুন শরীরে প্রজন্ম বয়ে যাওয়া
পরিবার মানে উত্তাল ঢেউয়ে সীমাহীন তরি বাওয়া
পরিবার মানে দুমুঠো অন্ন ছেলে-মেয়েদের মুখে
পরিবার মানে গোপনে গোপনে সব ভালবাসা বুকে
পরিবার মানে টানাপড়েনের নিত্য ঝামেলাঝাটি
পরিবার মানে বাবুইয়ের নীড় শান্তিতে পরিপাটি
পরিবার মানে মন কষাকষি, পরিবার মানে সন্ধি
পরিবার মানে পারিজাত ফুল হিয়ার মাঝারে বন্দী
পরিবার মানে দিনগুজরান দোলাচলে অবহেলে
পরিবার মানে যেখানে নিদাঘে আঁচলের ছায়া মেলে
পরিবার মানে বন্ধুতা ভরা আতুরে কাতরে নির্ভর
পরিবার মানে ফাগুনের গান, বৃষ্টির নাচ ঝরঝর
পরিবার মানে বহুজন ভিড়ে একান্ত বাসভূমি


পরিবার মানে আমি যে তোমার, এবং আমার তুমি ।











































এবং একুশ

শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়



আমি বিশ্বমানব
শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়




আমি বিশ্বমানব
তুই প্রতিবাদের দেওয়াল
আমি জটপাকানো
তুই সর্বনাশা খেয়াল
আমি সালতামামি
তুই অনাদি আশ্বিন
আমি হলুদ দুপুর
তুই ভালোবাসার ঋণ
আমি আড়ষ্ট সুর
তুই অব্দ খতিয়ান
আমি গৈবি লিপি
তুই আকাশজোড়া খাম
আমি ফেরার গাড়ী
তুই আধকপালী সুখ
তোর পাগলাটে দিন
আমি যাপনে উন্মুখ








































এবং একুশ

অলভ্য ঘোষ



বৃষ্টি নামার আগে
অলভ্য ঘোষ



বৃষ্টি আর অগ্নির মধ্যে ফারাক যদি তুমি জানতে।
বৃষ্টি খরা দগ্ধ ভূমিকে উর্বর করে শ্যামল করে।
তোমার দুচোখ টাই পুড়ে গেছে এই শহুরে জঙ্গলের দাবানলে।
শুধুই কি চোখ পুড়েছে নাকি মন ও!
না হলে তুমি বুঝতে আগুন আর বৃষ্টি পরস্পর বিরোধী।
বৃষ্টির ফোটোগুলোকে আগুনের ফুলকি বলে ভ্রম হতোনা।
পুড়ে যাবে ভেবে নিজেকে গুটিয়ে নিলে ছাতার আড়ালে।
তবুও এই নাগরিক সভ্যতার বুকে একা ধ্বংস স্তূপে
বৃষ্টি নামার আগে আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি তৃষণার্থ চাতক হয়ে।








































এবং একুশ

পবিত্র চক্রবর্তী



নামহীন ইতিকথা 
পবিত্র চক্রবর্তী 

এঁকে দাও আমার কপালে দীপ্ত কলঙ্কটীকা
একবার সঁপে দাও কলঙ্কের ভার -
তোমাদের আঁধার আমার কলঙ্ক ভারে ,
হবে সবুজদের পূর্ণ চন্দ্রিমা ,অথবা -
শরতের শিশিরের মতো আলো !


আমার কালো রক্তের ধারায় স্নাত হবে ,
মলিন-দুর্বলদের ললাট !
শিরায় বইবে কালোর স্রোত ;
তারপর তারাও একে একে পরবে -
আমার মতো কলঙ্কটীকা !

ঘৃণ্য বলবে , তোমরা ওই -
কুলটা আর কালো মুখগুলোকে ;
ক্ষতি নেই, তবুও তো ওরা নাম পেল !

সময়ের দুর্বল চাকায় ওরা চালাবে -
আসুরিক লুঠ,ধর্ষণ , অনেক কিছু !
একদিন হয়তো দেখবে,হয়তো একদিন-
কালস্রোতে কালো রক্তের ধরায় , তাদের
তৈরী অন্ধকার মসনদে সৃষ্টি হবে বিপ্লব !

আমার কালো হাত দুটিতে আরো দাও
মসি লেপে ; দেখবে কেমন করি ধ্বংস
করি ঘুণ ধরা জড়ভরত সমাজকে !

একদিন ধ্বংসের ধোঁয়া আর জঞ্জালের মাঝে দেখলাম , সূর্যকান্তি কচি কলাপাতার মতো দুটো অঙ্কুর - হয়তো তারা দুইজনা নারী ও পুরুষ ; হাত ধরে
বাঁধতে চাইছে নব যুগের বিজয়তোরণ !

হে বিধাতা, আর কেউ না দিক , এখন
তুমি দিও কলঙ্কের জয়টীকা !
বিজয়তোরণে প্রাণ ভরে নেব বহুকাল পর স্নিগ্ধ নিঃশ্বাস !!





































এবং একুশ

অনাদি চক্রবর্তী



হৃদয় দুয়ার
অনাদি চক্রবর্তী




হৃদয়ের দরজা যদি
বন্ধ করাই থাকে,
জমবেই মরচে যে তার
কব্জাগুলোর ফাঁকে।


খুললেই ক্যাচোর ম্যাচোর
শব্দ তখন তার,
ভয়ে আর আসবে না কেউ
খুলতে রে সেই দ্বার্।

রাখ তোর দুয়ার খোলা
আসা যাওয়া থাক দু'বেলা,
যদি কোন আপন ভোলা
পথিক এসেই পরে।
হৃদয়ের সিংহাসনে
বসে যদি আপন মনে,
চুপি চুপি সংগোপনে
আপন করিস তারে।

তারপর না হয় আবার
বন্ধ করিস রে দ্বার,
যদি সে হয় আপনার
চিরদিনের তরে।
না যদি হয় রে আপন
আপনি ফিরবে সে জন,
স্মৃতিগুলো থাকবে তখন
শূন্য হৃদয় জুড়ে।

সে স্মৃতির সুধারসে
থাকবি ডুবে যবে,
হৃদয়ের বন্ধ দুয়ার
আপনি খোলা রবে।





































এবং একুশ

সুপ্রতীম সিংহ রায়


সমুদ্র দেখব বলে
সুপ্রতীম সিংহ রায়




অন্ধকারে গা বাঁচিয়ে চলার মত হেঁটে গেলে
তোমার কাছে পৌঁছতে পারবনা কোনওদিনই


অথচ হিমেল স্রোতের মত এক একটা ঢেউএর তোড়ে
নিজেকে বড় নিঃস্ব মনে হয়।

ঝাউবন দ্বীপে আমার ছাইরঙা শব-চিতা
বালিয়াড়ি দ্বীপজুড়ে বোহেমিয়ান ভালবাসা

তুমি উপস্থিত বেওয়ারিশ কুয়াশার শরীরে আগুন পোষাক পরালে
স্বভাবগত হাওয়ার গন্ধ ভেসে আসে।

কর গুনে ভুল হয়

মুখ তুলে দেখি তুমি রিসর্টের চেয়ারে একা বসে আছো

অথচ ক্রমশ বহুদূরে সরে যাচ্ছে আমার ব্যক্তিগত বালিয়াড়ি দ্বীপ।








































এবং একুশ

কাজী এনামুল হক



নাভির কাজলদানিতে জ্বলে ওঠে সলতে
কাজী এনামুল হক


কিছু কথা ছিল জমা, বুকের তলদেশে।ওখানে ডুবুরী পৌঁছাতে পারে না,
মাঝে মধ্যে চিতল বোয়ালের মতো খলবল করে উঠতো বলা হতো না,
না, ঠোঁটের কাছে এসেও বেধে গেছে কাঁটার মতো এক তীব্র যন্ত্রনায়।
ভেবেছিলাম কোন একদিন অবসরে তুষকুড়োর মতো ঝেড়ে ফেলবো।


হয়নি অবসর, অবসাদে কেটে গেছে বেলা হয়তো হবে না কোনদিন,
কালো ময়না ডানা মেলে উড়ে গেলে বটবৃক্ষে পড়ে থাকে ঝরা পালক
কোকিল কাকের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফেলে যায় বংশধর মাতৃ হলুদকুসুম,
বুকের মাণিক পায় না আদর বড় হয় অমিত্রবুকে উড়াল উড়াল ভাব।

ঝিনুক শুক্তি নিয়ে বুকপকেটে জলজজীবন কাটায় সুখ-দু:খে জলডাঙ্গায়
বাসনা বিলাসি মন কাঁদে দুপুর রাতে আলো নিভে গেলে জগৎ সভায়
কে আর দেখে কাকে? কত বুক ফুঁসে ওঠে অবৈধসঙ্গম কৃত্রিম স্বান্ত্বনায়
নাভির কাজলদানিতে জ্বলে ওঠে সলতে দাঁতাল পেরেকবিদ্ধ গোলাপকুড়ি।

এসপার ওসপার কিছুই হয়নি, বৈরীমনোভাবে হয়না কোনদিন নিগুঢ় প্রেম,
তুমুল ঝড়ে উড়িয়ে নিলে চৌচালা ভিটেমাটি ভিজে যায় বৃষ্টি ও কুয়াশায়।




























এবং একুশ

সুপ্রভাত লাহিড়ী






মায়া চলে গেছে
সুপ্রভাত লাহিড়ী



মায়া চলে গেছে। চলে যাবে সে জানতই
শুধু জানত না কবে যাবে! শিয়রে জাগবে
দুটি উদ্বিগ্ন চোখ। সন্তানের কাতর জিজ্ঞাসা,
ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু ঝরে সূঁচ ফোটানো হাতে।


প্রথম ভোরের আলো ভর করে এলো সেই মৃত্যু।
অসহায় জিজ্ঞাসু চোখ খুঁজেছিল কিনা কেউ জানে না,
ডেকেছিল, ‘রিনা’!শয্যা-লাগোয়া রোগিনীর নাম ধরে,
সে ডাক তার কানে গেছিল, কিন্তু বলার সময়
আর ছিল না। হলো চোখ নিমীলিত, আড়াআড়ি দু-হাত
হৃদয় জড়িয়ে। অদ্ভুত বিচার নিয়তির!সব কাছে থেকেও
কেউ ছিল না, একক যাত্রায় সত্যিই একাকী.....!








































এবং একুশ

বনশ্রী মিত্র


প্রতীক্ষা
বনশ্রী মিত্র





মেঘবুড়ি তোর বয়স হবে কত?
মা বলে হাজারখানেক মত।


মেঘবুড়ি হাসে মিটিমিটি,
ছাদের ধারে আসে গুটিগুটি।
গল্প গাথা চলে সারাদুপুর,
বিকেল হলেই আবার সে
দূর বহুদূর।


মেঘবুড়ি তোর মজা কিন্তু ভারি
যেখান সেখান বানাস তোর বাড়ি।


মেঘবুড়ি তুই নিবি আমায় সাথে?
আকাশটাকে দেখব কাছ থেকে
তোর পেখমে বাঁধব বাসা আমার
গল্পে গল্পে সারাদিন কাবার।


হঠাৎ বৃষ্টি অহং নিয়ে তরপায়
শাওন এলে মেঘের কি বা রয়!


মেঘবুড়ি এই আঁধার ঘোচাবি কবে
অবিরাম বৃষ্টিতে মন যে আমার কাঁদে।
আয় না সখি,সেই চিলেকোঠার কোণে
শেষ না হওয়া কথাগুলো শুরু করি
আবার দোঁহে!




























এবং একুশ

কৌশিক বিশ্বাস

ঐতিহাসিক
কৌশিক বিশ্বাস 



অস্তিত্বের লড়াইয়ে
একটা পরাকাষ্ঠা দরকার
আদিমতম জলোচ্ছাসে
কূল ভাঙ্গার নিপুণতাও উধাও
রাখা আছে শুধুই
অসংখ্য খোলস !
আদিমরিপুর হাতে পরাজিত ,
বাহকরাও মলিন
রাত -দিন
এ কোন্ অভিশাপ ?
নাকি রক্তচাপের খেলা ?
বিভক্ত পৃথিবীতে যারা ছিল ;
এক সমান্তরাল সমাজের অঙ্গীকার
আজ ,
তাঁরাই কিনা ছোবল খেলায় মত্ত ?
রিক্ত , অনুরক্ত
ফেলে রাখা দুধ -কলায়
কেবলই অনুরাগের মায়া ...
তবে , তাই হোক
হোক মুক্তি , হোক অবলুপ্তি -
"শেষের প্রার্থনা করি করজোড় হাতে
দোহের সন্তান যেন থাকে দুধে -ভাতে !"
( sankhinipur গ্রামটি আজ পুরোটাই অবলুপ্ত
দক্ষিণ দিনাজপুরের সাপ গ্রাম নামে বিখ্যাত
শুধু মানচিত্রে তার অস্তিত্ব বহন করে চলেছে
সাপের খেলা দেখিয়ে মানুষ দিনযাপন করত
কিন্তু লোকায়ত কথা অনুযায়ী সাপের কামড়ে প্রায় মৃত্যু হবার জন্য গ্রামটি জনমানবহীন হয়ে পড়ে
বাকিটা ইতিহাস )





















































এবং একুশ

শঙ্কর দেবনাথ



মনে করো
শঙ্কর দেবনাথ



মনে করো - আমাদের ছোট্ট খাটটি
আদিগন্ত দেহ মেলে বিছানা পেতেছে -
মশারির ঘরে ঢুকে দু'চারটি
জোনাকিমন
নক্ষত্রের মত চোখ টিপে শুনাচ্ছে
আলোর গল্প -
আমি আর তুমি পাশাপাশি শুয়ে
ডুবে যাচ্ছি শুন্যের শরীরে -
মাঝখানে তোমার গর্ভে বসে
জন্মমঙ্গল পড়ছে আমাদের অনাগত
আলোক সন্তান-

মনে করো- আমরা দু'জন কোনো
নির্জন নক্ষত্রে গিয়ে শরীরের
অনদীমাতৃক ভুঁইয়ে রুয়ে দিচ্ছি
ভালবাসা-
আমাদের ঋতুময়ী প্রতিটি চুম্বনে
জন্ম নিচ্ছে
এক একটা প্রাণময়ী মহাগ্রহ -
আর তারা
ক্রমশ ছড়িয়ে যাচ্ছে মহাশুন্যে -
যদিও কৃষ্ণগুহা হা করে রয়েছে
তবু সঞ্জীবনী বীজমন্ত্রে
ভরে দিচ্ছে শব্দহীন চরাচর -
আর তুমি আমার হাতের মধ্যে
সংগোপন সুখে এঁকে রাখছো
চরিতার্থ মাতৃত্বের চিরন্তন
বর্ণমালা---

মনে করো- তোমার বুকের মধ্যে
ক্রমাগত বেড়ে উঠছে
আমাদের নাক্ষত্রিক ভালবাসা -
আর আমার চোখের প্রান্তরে
জেগে উঠছে সীমাহীনা
তোমার আকাশ---

মনে করো- প্রেমার্ত বাতাস মেখে
আমাদের একক জীবন
মহাজাগতিক যৌথজীবনে
হেঁটে যাচ্ছে অনন্তপ্রসারী পথে---

মনে করো---





































এবং একুশ

বন্দনা মিত্র




দাহ
বন্দনা মিত্র



জানি, কেউ কেউ খুঁজে পায়

নিজস্ব এক নদী

আর কেউ কেউ আছে

খোঁজেনি কখনও

যার না পেলেও চলে যায়।



দুজনেই ভাগ্যবান।



আর আমরা, যারা কাচ ঘেরা জানলায় চোখ রেখে

আজীবন খুঁজে ফিরি একান্ত নিজস্ব নদীটিকে

এবং মনে মনে এও জানি ,

না পেলেও

কেটে যাবে ছাপোষা জীবন

যেমন স্বভাবত কেটে যায়।



আমরাই জানি কাকে বলে যন্ত্রণা,

কাকে বলে দাহ।














































এবং একুশ

জাফর পাঠান






ক্ষমো-প্রেমো
জাফর পাঠান




আমার প্রেম - যতই দিক আমায় অপবাদ

করবোনা আমি তার-সামান্য কোনো প্রতিবাদ।



দিতে পারিনি আমি তাকে কোনদিন কোনকিছু

যদিও এখনো লেগে আছে- আমার পিছু পিছু।



প্রেম দিয়ে ঝুড়িকে ভরে-বাড়িয়েছে কত হাত

অপেক্ষায় থেকে কাটিয়েছে; কত প্রহর রাত।



শুকিয়েছে ফুল-ভেঙ্গে গেছে রেখে দেওয়া ঝুড়ি

দুখী তটিনী তটে, আমি হাতিয়েছি জড় নুড়ি।



দেখাবো কাকে আমার এই তাপিত হিয়া খুলে

যেখানে দুঃখ-ঘৃণা-দ্রোহ-প্রেম সবি যায় গুলে।



যে দোলনায় দুলে- ধর্ষিত মৃত শিশুর দেহ

চাইনি সেখানে হাতে হাত রেখে বসুক কেহ।



যত আছে ধর্ষক- খুনি- মিথ্যুক- অবিচারক

প্রেম কেড়ে আমায় করেছে অঙ্গারের ধারক।



হে প্রেম পিয়াসী অভিলাষী, করো আমায় ক্ষমো

পারিনি হাত মিলাতে হাতে, পারিনি দিতে প্রেমো।































এবং একুশ

সুমিত নাগ



অতিথিসৎকার
সুমিত নাগ



অতিথি আসেই ঘরে

যেমন এসেছে আবার

ঘরে আসবে, থাকতে দিলে থাকবে

খেতে দিলে খাবে, খঞ্জনি বাজিয়ে গান করব

মন যদি চায়-

কিন্তু মদ খেয়ে বাড়ী এসে আমাদের রাতের বেলা

পুরনো টেবিল ল্যাম্পটা ভাঙলে, সোফাটা বিশ্রী ভাবে

ধামসালে, হড়হড় করে বমি করে দিলে আমাদেরই

ঘরের মেঝেতে বা পোষা কুকুরটার গায়ে

আমাদেরই কাউকে না কাউকে তো বলতে হবে

-‘এই সামলাও, মদ খেয়েছ, চুপ করে বসো

বেশি হুল্লোড় না করে, এই বাড়ীতে আমরা এসব

সহ্য করি না। বাইরে বের করে দেবো’।













































এবং একুশ

পলাশ কুমার পাল






বারুদ খেলনা
পলাশ কুমার পাল



বারুদের মেলা আকাশ পারে

জীবনের ফুলঝুরি,

পুড়ছে জ্বলছে আর নিভছে...

স্বপ্নের সব তুবড়ি।

কোনো স্বপ্নই আকাশ পায় না

সব মৃত্যুর প্রতিধ্বনি,

আলোর সজ্জা বাহুল্য শুধুই

আকুতির ঝুমঝুমি।

বেজে যায় স্মৃতি-শব্দ-কথারা

হৃদয়ের দেয়ালেতে...

পিঞ্জরে পাখিরা ডানার শব্দ

পুড়ছে বারুদেতে...



ভালোবাসা আকাশ কামনায়

মিথ্যা বারুদ-খেলনা,

ক্ষণেক জ্বলে মাটিতেই ফেরে

অধরা থাকে বায়না!




























এবং একুশ

শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০১৬

সম্পাদকীয়



সম্পাদকীয়






প্রকাশিত হলো 'এবং একুশ', ২য় বর্ষ, ১৪তম সংখ্যা



এই সংখ্যার নির্বাচিত কবিরা হলেন -

















এবং একুশ

রণদেব দাশগুপ্ত





দোলপুরাণ
রণদেব দাশগুপ্ত


  কেমন করে বেঁধেছ এই হাত 
নিয়েও আমি নিঃস্ব আকাশ একা 
অদৃশ্য কোন্ ছুরির আঘাত লাগে 
দর্পণে সেই রক্ত ছুঁয়ে দ্যাখা 
ঘোর লাগানো সাতরঙা উত্সবে 
নীরবে এই অনন্ত যন্ত্রণা 
আবীর জানে জ্যোত্স্নামাখা নেশা 
ফাগুন জানে , সকলে অন্ধ না 
রঙের ঢেউয়ে বান ডেকেছে বলে 
সাঁতার তোমায় দিতেই হবে বুঝি ? 
নীরক্ত এই পত্রাবলী বোঝে 
ক্ষুধার বানান রুটি এবং রুজি 
দরজা কোনো খোলে না আজকাল 
প্রাণের 'পরে স্বার্থমুখর দিন 
আগুন জ্বলে মুখলুকোনো বনে 
লোভের ঘুড়ি একান্তে উড্ডীন 
পলাশ শিমূল অশোক ভালোবাসা 
ঋতুর মাঝে শ্বদন্ত দেয় উঁকি 
বাসন্তী রং দেয় না জীবন খুঁজে 
তোমায় ভোলায় প্রকান্ড বুজরুকি 
তবুও এই তাসের দেশেই বাঁচো
 নিয়মমতে চলো সঠিক মাপে 
কারা যেন ওপরতলায় বসে 
হিসাব মেলায় নিখুঁত খাপে খাপে 
তরঙ্গ তার আসঙ্গ উল্লাসে
 যদি ডাকে দু'হাত মেলে দিয়ে
 তখন বলি , এমন বেঁধেছ যে 
 নিঃস্ব হলাম সকলটুকু নিয়ে ||









এবং একুশ

স্বপন দেব

স্বপ্নসহচরী
স্বপন দেব



ঘুম আসুক, ঘুম...
রাত তিনটেয় মোরগ ডাকছে…… 
ভেসে যাওয়া পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায়
ব্যালকনীতে ঠায় দাঁড়িয়ে
মধ্যরাত্রি থেকে এক মেয়ে
ওর ঘুম আসছেনা…...
নিস্তব্ধ রাত্রি, সমস্ত শহর 
হারিয়ে গেছে প্রগাঢ় নিদ্রায় 
ধু-ধু রাজপথে 
একটি পাখিও ডাকেনা, 
শুধু মেয়েটির ঘুম আসছেনা…… 
ওর হৃদস্পন্দনে বীজমন্ত্র দাও কলকাতা
ওকে স্বপ্ন দাও, বহুদিন স্বপ্ন দেখেনি সে 
ওর প্রাণে দাও দিন-যাপনের দুঃসাহস
টায়রার মত সিঁথিতে ঝুলিয়ে দাও 
মুগ্ধতার কবচকুণ্ডলী 
ওকে অরুন্ধতী নক্ষত্র দেখাও 
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের রাতপরি 
ছায়াপথ ছুঁয়ে যাক ওর আঁখি-পল্লব 
ঘুম আসুক…ঘুম…স্বপ্ন-সহচরীর 
অনিদ্র নয়নে।







এবং একুশ

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়






আমাদের বাড়ি
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়


তোমার বাড়ি

টিভির স্ক্রীনে স্বচ্ছ ধুলো
নকশা কাটা পর্দাগুলো
দেওয়াল ফ্রেমে ইম্প্রেশনিস্ট ছবি
কাঁথা-সেলাই গালচে পাতা
এক পাশে তার তানপুরাটা
বেশ কিছুদিন গাইছে না ভৈরবী

শোবার ঘরের দরজাখানা
দুপুরবেলা খুলতে মানা
ভুলতে মানা অভিজ্ঞতার রাশি
বাষ্প হয়ে স্নানের ঘরে
সন্ধ্যেবেলা বৃষ্টি পড়ে
ভিজতে তাতেই তোমার কাছে আসি


আমার বাড়ি

দেওয়াল ছুঁলে ভুল হবে দিক
ছাদের কোণে ঝুলের গ্রাফিক
শুঁয়োপোকার স্বপ্নে সেটা
সমস্তদিন ক্লান্তিবিহীন এফ এম রাগে বাজে

সঙ্গতে তার ঘুরতে থাকা
বিষণ্ণ নীল সীলিং পাখা
মধ্যরাতে বাধ্য করে
পদ্যলেখা, ইতাদি সব অর্থবিহীন কাজে








এবং একুশ

প্রণব বসুরায়




স্পর্শ 
প্রণব বসুরায়



হঠাৎ কিছু ঘটতে পারে যেই ভেবেছি মনে
আমায় কেহ জড়িয়ে ধরে চন্দনে চন্দনে
আমি তখন টলায়মান, মাটিতে নেই পা
আঁধারও যে এমন আলো, জানাই ছিল না

#

এসব বুঝি কীর্তি তোমার? চুল খুলেছো রাতে
আঁশবঁটিটা সরিয়ে রাখো, স্পর্শ দেবো হাতে









এবং একুশ

সুদীপ গুপ্ত





সম্পর্ক
সুদীপ গুপ্ত



রাশি জানা নেই 
বতিচেল্লীর তুলিতে ভেনাসের জন্ম 
ক্যানভাস জুড়ে রঙ 
রীনা বৌদি এসে দাঁড়ান ব্যালকনিতে 
রাঙা ঠাকুরপো এখনো মুখচোরা 
অথচ মার্চেই ইয়ার এন্ডিং 
যদি কথা ওঠে 
একটা একটা করে ছিঁড়ে ফেলবেন ফুল 
সব ফুলে তো আর পূজো হয়না






এবং একুশ

পিয়ালী বসু ঘোষ



বৃষ্টি বিকেল 
পিয়ালী বসু ঘোষ



বৃষ্টিসড়ক ঝাপসা হলেও 
দৃষ্টি তেমন বার্তাবহ 
ফেরার পথে সাহস করে 
বন্দী করি মিথ্যে মোহ!

আজই কেবল ডুব দিয়েছে 
সূর্য দেখি তোমার চোখে 
আমিও কিছু শব্দ সময় 
ধার চেয়েছি নিজেই যেচে!

জলের তলায় লুকিয়ে রাখি 
নাম হারানো বিকেল যত 
দুহাত দিয়ে মুছছি সবই 
শ্যাওলাগুলো ইচ্ছেমত!

কাব্যি নামক প্রেম ছিল বেশ
বৃষ্টিদাগে মুছিয়ে দিল 
একটু আলোর হা ঘরে সুখ 
বেড়াল পায়ে পালিয়ে গেল!







এবং একুশ

শান্তনু দাশ



বনপলাশী
শান্তনু দাশ



এখন শহর কৃষ্ণচূড়া
বনপলাশী গন্ধে

উজান এলো শাখায় শাখায় !
পর্ণমোচী সন্ধে

শরীর জুড়ে নরম আলো
বেহিসেবী জ্যোৎস্না

বুকের ভেতর গোপন ছোঁয়াচ
উতল কেন হোস না?

নিষেধ নদী পার হয়ে যাই
শুনতে পেলে ডাক

স্রোতের উপর হিমেল তুফান
জল যে পুড়ে খাক

কোথায় থাকে এতো আগুন
কোথায় থাকে জল?

সারাটা দিন ছলাৎ ছলাৎ
লক্ষে অবিচল!

নদী বলতে বালিকা গাছ
বাসন্তী রঙ শাড়ি,

ডাক পাঠালে শেষ বিকেলে
ভালবাসতে পারি !








এবং একুশ

পাপিয়া গাঙ্গুলি




ঘুটি হাতে একা
পাপিয়া গাঙ্গুলি



এক্কা দোক্কা ছক্ কেটে 
খেলতে ডাকলি একদিন।
চক টানা ঘরে লাফালাফি,
বৃষ্টি নামিয়ে, সব মুছে 
চলতি পায়ে বলে গেলি 
'খেলা শেষ, বাড়ি ডাকছে'
আমার তোকে যে
বিশ্বাস করা হলনা।










এবং একুশ

রেজা রহমান



আমার কী দোষ? 
রেজা রহমান



মড়া আমি পোড়া আমি ভালো
এক শুধু তুমি ছাড়া কে আর আমাকে পোড়ালো
আমারই আঙ্গিনা দিয়ে সেই তুমি গেলে আনবাড়ি
আমার কী দোষ বলো আমি যদি আর না-ই পারি?
আমি বিষে নীল আমি কালো
আঁধার মেঘের বুকে বিজুরিবহ্নিশিখা জ্বালো 
নির্বাপিত আমি স্তব্ধবাক
দেহাবশেষ নিক শ্মশানবন্ধু্রা ধূপ সুরভি ছড়াক ।
ঐ তো ফুটেছে ফুল পাখি ডাকে রাত্রি পোহালো 
চিতাভস্মটুকু শুধু নিজ হাতে অশ্রুজলে ঢালো ।






এবং একুশ

শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়






"Tonight I can write the saddest lines"
শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়



নেরুদা কবিতা বেয়ে
টুপটুপ ঝরে বিষাদবিন্দুরা।


একটি বিগত জীবন

একটি আগামী জীবন

তোমার কাছে পৌঁছোবার অপেক্ষায়
একটি নীল যতিচিহ্নের অপেক্ষায়

ঠিক কোনখানটিতে নির্ণীত 
সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয় আকাশের 
বিভাজিকা রেখা?
কোন মুহূর্তটিতে 
বিষণ্ণতার মাকড়সা-জাল ছিঁড়ে ফেলে
সামুদ্রিক হাসি?
কোন সেই দিগন্তরেখায় 
তোমার আর আমার ওষ্ঠ অবশেষে মেশে 
ব্যপ্ত চুম্বনে?

কোন পবিত্রক্ষণে
চলে আসা, আর ফিরে যাওয়ার রঙ মিলে
অনন্ত গোধূলি?

তুষার চাদরে হিমায়িত
আমি প্রতীক্ষা করি
খোলা জানালার উষ্ণতার

ফেরারি
সেই মাহেন্দ্রলগ্নটির









এবং একুশ

হিমাদ্রি মুখোপাধ্যায়



‪বেলাশেষে‬
হিমাদ্রি মুখোপাধ্যায়




সুন্দরী উৎপলবর্ণা
বিগলিত নির্ঝরপ্রান্তে,
কিছু কথা রয়ে গেলো ঊহ্য,
যদি তুমি কখনো তা জানতে


গলে তুমি নদী হ'তে পারতে,
সোনা রং আকাশেতে লাগতো,
হয়তো বা কিছু পাপ চন্দ্রে,
আলো হ'য়ে সারারাত জাগতো।






এবং একুশ